এই লক্ষণ গুলি দেখলেই সাবধান!

এই লক্ষণ গুলি থাকলেই হতে পারে ডায়াবেটিস! এখন থেকেই সাবধান হন

আর প্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্কঃ আপনার কি বারবার জল খেতে ইচ্ছে করে? ঘন ঘন ইউরিন হয়? খাওয়ার পরও খুব তাড়াতাড়ি আবার খিদে পায়? অল্প কাজেই ক্লান্ত লাগে ?” এসব লক্ষণ রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার কারণে হতে পারে। কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো ডায়াবেটিস হবার আগে অনেক মানুষের শরীরে কোনো লক্ষণই থাকে না! তাহলে কীভাবে বুঝবেন আপনার ডায়াবেটিস হতে পারে কিনা কি না? আমরা সাধারণত ভাবি আমার তো খুব বেশি জল তেষ্টা পায় না, বারবার প্রস্রাবও হয় না, তাহলে নিশ্চয়ই আমার রক্তে সুগার ঠিক আছে। কিন্তু এখানেই ভুলটা হতে পারে। কারণ প্রি-ডায়াবেটিস অনেক সময় নীরবে থাকে। আপনি বাইরে থেকে একদম স্বাভাবিক, কাজ করছেন, খাচ্ছেন, ঘুমাচ্ছেন কিন্তু রক্তে গ্লুকোজ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে।

এই প্রি-ডায়াবেটিস কী, কোন লক্ষণগুলো খেয়াল করবেন, কার ঝুঁকি বেশি এবং কোন পরীক্ষায় বিষয়টি নিশ্চিত করা যায় জানা যাক বিস্তারিত।

১) প্রি-ডায়াবেটিস আসলে কী? প্রি-ডায়াবেটিস মানে ডায়াবেটিস হয়ে গেছে এটা নয়। এর অর্থ হলো, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি, কিন্তু এখনও ডায়াবেটিসের নির্ণয়ের সীমায় পৌঁছায়নি। এটা অনেকটা শরীরের একটি সতর্ক সংকেত। এই পর্যায়ে নিজের খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যকলাপ, ওজন এবং অন্যান্য ঝুঁকি নিয়ে সচেতন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রি-ডায়াবেটিসকে অবহেলা করলে ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

কোন কোন পরিবর্তন হলে আপনি সতর্ক হবেন?

১. অস্বাভাবিক ক্লান্তি
পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি বারবার দুর্বল বা ক্লান্ত লাগে, বিষয়টি খেয়াল করুন। তবে মনে রাখবেন—ক্লান্তির আরও অনেক কারণ থাকতে পারে।

২. অতিরিক্ত তৃষ্ণা
আগের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি জল খেতে ইচ্ছা করা উচ্চ রক্তশর্করার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

৩. ঘন ঘন প্রস্রাব
বিশেষ করে আগের তুলনায় প্রস্রাবের পরিমাণ বা frequency স্পষ্টভাবে বেড়ে গেলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা ভালো।

৪. অতিরিক্ত ক্ষুধা
খাওয়ার পরও অস্বাভাবিক ক্ষুধা লাগা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের সমস্যার সঙ্গে কখনও সম্পর্কিত হতে পারে।

৫. ঝাপসা দেখা
রক্তে গ্লুকোজ বেশি হলে কিছু মানুষের সাময়িকভাবে দৃষ্টিতে ঝাপসা ভাব দেখা দিতে পারে।

৬. ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া
উচ্চ রক্তশর্করার ক্ষেত্রে ক্ষত সারতে সমস্যা হতে পারে। কিন্তু এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা এই লক্ষণগুলো থাকলেই আপনার প্রি-ডায়াবেটিস হয়েছে, এমন নয়। আবার এগুলো না থাকলেও প্রি-ডায়াবেটিস থাকতে পারে। তাই শুধু লক্ষণ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

কার ঝুঁকি বেশি?

লক্ষণ না থাকলেও কারা সতর্ক থাকতে হবে? যাদের ওজন বেশি বা পেটের চারপাশে অতিরিক্ত চর্বি আছে, যারা নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় নন, পরিবারে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ইতিহাস আছে, আগে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হয়েছিল, অথবা চিকিৎসক যাদের বয়স ও অন্যান্য ঝুঁকির কারণে স্ক্রিনিং করতে বলেছেন তাদের রক্তশর্করা পরীক্ষা নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পরিবারে বাবা-মা বা ভাই-বোনের ডায়াবেটিস থাকলে বিষয়টি অবহেলা করবেন না।

কোন পরীক্ষায় বুঝবেনঃ

কীভাবে নিশ্চিত হবেন? শুধু লক্ষণ দেখে নয়। রক্ত পরীক্ষা করেই বিষয়টি ভালোভাবে মূল্যায়ন করা হয়। চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী Fasting Blood Glucose, HbA1c অথবা কিছু ক্ষেত্রে Oral Glucose Tolerance Test করতে বলতে পারেন।HbA1c গত কয়েক মাসের গড় রক্তশর্করার একটি ধারণা দেয়।আর fasting glucose নির্দিষ্ট সময় না খেয়ে থাকার পর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দেখায়।তবে নিজের রিপোর্ট দেখে নিজেই রোগ নির্ণয় করবেন না। একজন চিকিৎসক আপনার রিপোর্টের সঙ্গে বয়স, ওজন, ওষুধ, অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা এবং ঝুঁকির বিষয়গুলোও বিবেচনা করবেন।

এরপর যদি প্রি-ডায়াবেটিস ধরা পরে তবে কী করবেন …
ভয় পাওয়ার দরকার নেই। বরং এটাকে সময়মতো পাওয়া একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখুন। নিয়মিত ব্যায়ামস্বাস্থ্যকর ও পরিমিত খাবার খান ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন পর্যাপ্ত ঘুমোন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান চিনি বন্ধ করলেই প্রি-ডায়াবেটিস চলে যাবেএমন সহজ কোনো নিয়ম নেই।এক্ষেত্রে পুরো লাইফ স্টাইল বদলানো গুরুত্বপূর্ণ।

তাই মনে রাখা দরকার প্রি-ডায়াবেটিসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অনেক সময় এর কোনো স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না।তাই আপনার কোনো সমস্যা নেই এই ধারণার ওপর ভরসা না করে, ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তশর্করা পরীক্ষা করুন।