ফুটবল জ্বরে কাঁপছে কলকাতা। মধ্যরাতে শহরে পা রেখেছেন ভিনিসিয়াস জুনিয়ররা। শুক্রবার সকালেই হালকা অনুশীলনে নেমে পড়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। শনিবারের হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে মাঠে ঘাম ঝরানোর পাশাপাশি খাবারের প্লেট নিয়েও কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না ব্রাজিল শিবির। কলকাতায় এসেও তাই বাঙালি খাবারের স্বাদ থেকে দূরেই থাকছেন ভিনিসিয়াসরা!

সুচারু মিত্র, নিজস্ব সংবাদদাতা
শহরের বিলাসবহুল হোটেলে উঠলেও খাবারের দায়িত্ব কার্যত নিজেদের হাতেই রেখেছে ব্রাজিল দল। দলের সঙ্গে রয়েছেন নিজস্ব রাঁধুনি। নির্দিষ্ট ডায়েট মেনেই তৈরি হচ্ছে প্রতিটি পদ। শুধু তাই নয়, দলের পুষ্টির দিকে নজর রাখতে নিউট্রিশনিস্টও উড়িয়ে আনা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ব্রাজিল দলের ডিনারের আয়োজন রয়েছে। সেখানে বাঙালি ও ভারতীয় নানা ঐতিহ্যবাহী পদ সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু দলের তারকারা সেই খাবার চেখে দেখবেন কি না, তা নিয়ে অবশ্য হতাশাই হতে পারে খাদ্যরসিক বাঙালির। জানা গিয়েছে, ম্যাচের আগে নির্ধারিত ডায়েটের বাইরে কোনও খাবারই খেতে চাইছেন না ভিনিসিয়াসরা।
দিনে পাঁচ বার খাবার দেওয়া হচ্ছে খেলোয়াড়দের। তেলের ব্যবহার প্রায় নেই বললেই চলে। রান্নায় ব্যবহার করা হচ্ছে অলিভ অয়েল। লাঞ্চ এবং ডিনারে থাকছে পরিমিত ভাত, স্পেগেটি, সেদ্ধ ছোলা, কড়াইশুঁটি, মাছ, চিকেন, পাঁঠার মাংস, স্যালাড এবং পরিমিত ডেজ়ার্ট।
বাঙালির মতো ব্রাজিলিয়ানদেরও মাছের প্রতি আলাদা টান রয়েছে। ফলে কলকাতায় এসে হরেক রকম মাছ পেয়ে দলের রাঁধুনিরা খুশি। মেনুতে থাকছে বিভিন্ন ধরনের মাছ এবং সামুদ্রিক খাবারও।
সকালের খাবারে পাউরুটি, সেদ্ধ ডিম এবং ফল। দিনের বাকি সময়ে খেলোয়াড়দের জন্য থাকছে ফল ও ড্রাই ফ্রুট। এমনকি পানীয় জলও ব্রাজিল থেকে সঙ্গে করে আনা হয়েছে।
খাবারের পাশাপাশি শরীরচর্চাতেও কোনও ফাঁকি নেই। কলকাতার হোটেলেই জিম করেছেন ভিনিসিয়াসরা। অনুশীলন, বিশ্রাম, খাবার—সব কিছুই চলছে দলের নির্দিষ্ট রুটিন মেনেই। শনিবার মাঠে নামার আগে তাই কলকাতায় ব্রাজিলের প্রস্তুতিতে ফুটবল যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ একেবারে মেপে-মেপে সাজানো খাবারের প্লেটও।