শেষ হতে চলেছে ২১ বছরের বর্ণময় আন্তর্জাতিক কেরিয়ার। যে কেরিয়ারে একের পর এক সাফল্যের পালক জুড়েছে তাঁর মুকুটে। প্রায় ৮৫ হাজার দর্শকের সামনে মনুমেন্টালের গ্যালারিতে এ বার লেখা হবে মেসির বিদায়ের গল্প।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
আর এক বার! ভারতীয় সময় বুধবার ভোর সাড়ে ৪টে। বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিয়ো মনুমেন্টালে বেনিনের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচে নামবে আর্জেন্টিনা। আর সেই ম্যাচেই দেশের জার্সিতে শেষ বার দেখা যেতে পারে লিওনেল মেসিকে। শেষ হতে চলেছে ২১ বছরের বর্ণময় আন্তর্জাতিক কেরিয়ার। যে কেরিয়ারে একের পর এক সাফল্যের পালক জুড়েছে তাঁর মুকুটে। আর্জেন্টিনার সর্বকালের সেরা তো বটেই, ফুটবলবিশ্বের সেরাদের তালিকাতেও মেসির নাম প্রথম সারিতে।
প্রায় ৮৫ হাজার দর্শকের সামনে মনুমেন্টালের গ্যালারিতে এ বার লেখা হবে বিদায়ের গল্প। যে মাঠে বহু বার মেসির নামে গর্জে উঠেছে দর্শকাসন, বুধবার সেই গ্যালারিই সম্ভবত তাঁকে শেষ বার দেশের হয়ে খেলতে দেখবে। বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের ধাক্কা, তার পর বাবার মৃত্যু—পর পর কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেসি। তাঁর জন্য বিদায়ী ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিল আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা। এ বার সেই মুহূর্ত বাস্তবের পথে।
২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার সিনিয়র দলে অভিষেক। তার পর কেটে গিয়েছে ২১ বছর। দেশের হয়ে ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল, সঙ্গে ৬৮টি অ্যাসিস্ট। মেসির নেতৃত্বেই আর্জেন্টিনা জিতেছে একটি বিশ্বকাপ, দু’টি কোপা আমেরিকা এবং একটি ফাইনালিসিমা। আরও দু’টি বিশ্বকাপে রানার্স হয়েছে তারা।
বিদায়ের মঞ্চে মেসির পাশে থাকবেন অ্যাঞ্জেল দি মারিয়া। ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালেও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলেছিলেন দু’জনে। বিশ্বজয়ী দলের আরও কয়েক জন সদস্যও থাকবেন। পাশাপাশি জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম—ফ্রাঙ্কো মাসটান্তুয়োনো, লিওনেল ফ্লোরেসদেরও দেখা যাবে মাঠে। মেসি যখন অভিষেক করেছিলেন, তখন তাঁদের অনেকেরই জন্ম হয়নি।
ম্যাচের আগে আবেগ সামলাতে পারেননি কোচ লিওনেল স্কালোনিও। তাঁর কথায়, ‘‘সকলের জন্য অবিস্মরণীয় একটা দিন। সবাই এই ম্যাচের সাক্ষী থাকতে চাইছে।’’
মেসির শূন্যস্থান কী ভাবে পূরণ হবে? স্কালোনির জবাব, ‘‘আমরা সকলে মিলে লিওর অভাব পূরণের চেষ্টা করব। একা কারও পক্ষে সেটা সম্ভব নয়।’’
ক্লাব ফুটবলে আপাতত ইন্টার মায়ামির সঙ্গে ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে মেসির। তবে বাবার মৃত্যুর পর তাঁর কথায় ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত মিলেছে। ফলে জাতীয় দলের পর ক্লাব ফুটবলেও কবে পর্দা নামবে, সেই প্রশ্ন থাকছেই। বুধবার তাই শুধু একটি ম্যাচ নয়—একটি যুগের বিদায় দেখার অপেক্ষায় ফুটবলবিশ্ব।