গত দু’বছর ধরে আইপিএলের সঙ্গে একই সময়ে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) আয়োজন করে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি)। কমেছে দর্শকসংখ্যা। বিদেশি তারকাদের অংশগ্রহণেও ভাটা পড়েছে। তবু শিক্ষা হয়নি পাক বোর্ডের।

ফের আইপিএলের সঙ্গে একই সময়ে পিএসএল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিলেন পিসিবি প্রধান মহসিন নকভি। ফলে আগামী মরসুমেও দুই প্রতিযোগিতার মধ্যে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পিসিবি-র ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী বছরের ১৮ মার্চ শুরু হবে পিএসএল। আট দলের এই প্রতিযোগিতা চলবে ২ মে পর্যন্ত। গত ১ সেপ্টেম্বর লন্ডনে পিএসএলের গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্য দিকে, আইপিএলের দিনক্ষণ এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে মার্চের মাঝামাঝি শুরু হয়ে মে মাসের শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতা চলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থাৎ, প্রায় দেড় মাস ধরে একই সময়ে চলতে পারে দুই লিগ।
গত মরসুম থেকেই পিএসএলের কাঠামোয় বদল এনেছে পিসিবি। ছ’টি দলের পরিবর্তে আটটি দল নিয়ে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। পুরনো ড্রাফট পদ্ধতি সরিয়ে চালু করা হয়েছে নিলামও। কিন্তু এত পরিবর্তন করেও আইপিএলের জনপ্রিয়তার ধারেকাছে পৌঁছতে পারেনি পাকিস্তানের ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি লিগ। বাণিজ্যিক সাফল্য এবং দর্শক টানার ক্ষেত্রেও আইপিএলের সঙ্গে ব্যবধান স্পষ্ট।
তবে সেই ব্যর্থতা স্বীকার করতে নারাজ নকভি। গত মরসুমের পিএসএলকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে দাবি করেছিলেন তিনি। এ বারও আইপিএলের সঙ্গে একই সময়ে প্রতিযোগিতা আয়োজনের সিদ্ধান্তে অনড় পাক বোর্ড। সমালোচকদের একাংশের মতে, ক্রিকেটের বাণিজ্যিক বাস্তবতার চেয়ে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে নকভির ব্যক্তিগত সংঘাতই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
গত মরসুমে পিএসএল ঘিরে নিরাপত্তার উদ্বেগও কম ছিল না। জঙ্গি সংগঠনের হুমকি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ড্রোন হামলার আশঙ্কায় বিদেশি ক্রিকেটারদের একাংশের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তার উপর আইপিএলের সঙ্গে সূচির সংঘাত থাকলে বিদেশি তারকাদের পাওয়ার সম্ভাবনা আরও কমবে। ফলে ফের আর্থিক ক্ষতি এবং দর্শকসংখ্যা কমার আশঙ্কা থাকছেই। প্রশ্ন উঠছে, আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিয়ে কেন একই পথে হাঁটছে পিসিবি?