দিল্লিতে বাড়ির সামনে ধর্নায় বসে আটক হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। তাঁর সঙ্গে আটক করা হয়েছে দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, ডেরেক ও’ব্রায়েনকেও।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে বিতর্কের আঁচে উত্তপ্ত দিল্লির রাজপথে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভে নেমে ১০ অক্টোবর, শনিবার দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণ অ্যাভিনিউ বাসস্ট্যান্ডের কাছে রাস্তায় ধর্নায় বসেছিলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে আটক করা হয়েছে দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, ডেরেক ও’ব্রায়েন, শামিরুল ইসলাম, সাকেত গোখলেকে।
কুণাল ঘোষ এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট দিয়ে লেখেন, ‘‘দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাড়ি থেকে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ আটকে দিয়েছে। কোনও রকম প্রতিবাদও করতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি সাংসদদের নিয়ে বাড়ির সামনেই বসে পড়েছেন।’’ তার পরেই মমতাকে আটক করা হয় বলে খবর।
অন্য দিকে, দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আটক করা হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-সহ একাধিক নেতাকে। আটক হয়েছেন জার্মানিতে বসবাসকারী ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিও।

সিজেপির ডাকে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে দিল্লিতে জড়ো হওয়ার কথা ছিল কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীর। অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় সুবিধা পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দল বিজেপি। যদিও নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি, দু’পক্ষই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিক্ষোভ ঘিরে শনিবার সকাল থেকেই নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয় রাজধানীর একাধিক এলাকা। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লির ৪৫টি মেট্রো স্টেশন ও বাজার বন্ধ রাখা হয়। শহরের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিভিন্ন প্রবেশপথে গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালায় পুলিশ। রাস্তায় বসানো হয় ব্যারিকেড ও কংক্রিটের ব্লক। বিক্ষোভকারীদের বাসে তুলে নিয়ে যেতে দেখা যায় পুলিশকে।
মুম্বই থেকে দিল্লি পৌঁছনোর পর বিমান থেকেই আটক করা হয় সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং তাঁর দুই সহযোগী সৌরভ দাস ও অশুতোষ রাঙ্কাকে। পুলিশের উদ্দেশে দীপকের বক্তব্য, “আমাকে গ্রেফতার করতে এসেছেন, গ্রেফতার করুন। আমি ভয় পাই না।” যদিও পুলিশ জানায়, এটি গ্রেফতার নয়, তাঁকে সহযোগিতা করতে হবে। গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে আটক করা হয় ধ্রুব রাঠিকেও।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটার তালিকা যাচাইয়ের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার জন্য চিহ্নিত হয়েছিল। এর মধ্যে স্থানান্তরিত ৬.৩ কোটি, খুঁজে পাওয়া যায়নি এমন ৩ কোটি এবং মৃত ২.৮ কোটি ভোটারের নাম রয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, খসড়া সংশোধনের পর্যায়ে এই নামগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ভুলবশত নাম বাদ পড়লে ফের নথিভুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এই বিতর্কে বিরোধীদের আন্দোলন আরও জোরদার হচ্ছে। তবে দিল্লি পুলিশের দাবি, কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি।