‘ভারতের কণ্ঠস্বরের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন না’

বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে আন্দোলন ঘিরে ফের উত্তপ্ত দিল্লির রাজনীতি। বিক্ষোভকারীদের উপরে পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বুধবার কড়া বার্তা দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর হুঁশিয়ারি, আন্দোলনকারীদের উপরে অত্যাচারের ঘটনায় যাঁরা দোষী, তাঁদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না।

বুধবার নিগৃহীত হওয়ার অভিযোগ তোলা জাতীয় ছাত্র সংগঠন (এনএসইউআই)-এর কর্মীদের পাশে বসে সাংবাদিক বৈঠক করেন রাহুল। সেখানেই তিনি বলেন, “এটা ভারত। অমিত শাহজি, ভাল করে দেখুন। এখানে কোনও হিন্দু, মুসলিম বা নির্দিষ্ট জাতির মানুষ নেই। কোনও নারী বা পুরুষ নেই। রয়েছে একটাই কণ্ঠস্বর, একটাই প্রতিবাদ। এটা ভারতের কণ্ঠস্বর। আপনারা, প্রধানমন্ত্রীও, সেই কণ্ঠস্বরের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। এই কণ্ঠস্বরের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন না। কেউ এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারবেন না।”

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মঙ্গলবারের আন্দোলনের সময়ে তাঁদের আটক করে মারধর করে দিল্লি পুলিশ। এক মহিলা আন্দোলনকারীর দাবি, বাসে আটক করার পরে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে চঞ্চল যাদব নামে এক মহিলা পুলিশকর্মী তাঁর গলা চেপে ধরেন, ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং মুখে আঁচড় দেন। তাঁকে চড় মারার অভিযোগও করেছেন ওই তরুণী। অন্য এক আন্দোলনকারীও পুলিশি হেফাজতে মারধরের অভিযোগ তুলেছেন। যদিও এই অভিযোগগুলির স্বাধীন ভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

রাহুল জানান, আন্দোলনকারীদের কাছে ঘটনার ভিডিয়ো-সহ সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহ করে কংগ্রেসের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। তাঁর কথায়, প্রধানমন্ত্রী মোদী, অমিত শাহ, জ্ঞানেশ কুমার থেকে শুরু করে যে পুলিশকর্মীই আইন ভেঙে থাকুন, সকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চান তাঁরা।

এর আগে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও বিক্ষোভে বাধা এবং এসআইআর নিয়ে বিজেপিকে নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার পরে এ বার প্রতিবাদের অধিকারেও হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।

এ দিকে, ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভে পুলিশি হামলার অভিযোগে স্বাধীন তদন্ত চেয়ে এনএসইউআইয়ের এক পদাধিকারীর করা মামলার শুনানি হয়েছে দিল্লি হাই কোর্টে। দিল্লি পুলিশকে তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রাথমিক আপত্তি জানিয়ে হলফনামা জমা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত। আগামী ১৬ অক্টোবর মামলাটির পরবর্তী শুনানি।