মন্দিরের কারুকাজে উত্তমকুমারের স্মৃতি! রাজপুরে পুজোর চমক

কল্পতরু মন্দিরের আদলে বিশাল মণ্ডপ। স্থাপত্যে শিল্পকলার ছোঁয়া। মন্দিরের গায়ে ফুটে ওঠা নানা কারুকার্য ও ভাস্কর্যের সঙ্গে এবার বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি মহানায়ক উত্তমকুমারের স্মৃতি। ৭৩তম বর্ষে এমনই অভিনব আয়োজন নিয়ে হাজির রাজপুরের এম এন রায় রোডের নবারুণ সংঘ। এবারের পুজোর থিম ‘কল্পতরু মন্দির’।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা

প্রতিবছরই দর্শনার্থীদের নতুন কিছু উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেন পুজো উদ্যোক্তারা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিভিন্ন মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী, মূর্তি, ভাস্কর্য ও সূক্ষ্ম কারুকার্যের অনুকরণে সাজানো হয়েছে গোটা মণ্ডপ। মন্দিরের শিল্পকলাকে ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের এক অন্যরকম পরিবেশ উপহার দেওয়াই উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য। তবে শুধু মন্দিরের স্থাপত্য নয়, এবারের পুজোয় রয়েছে আরও একটি বিশেষ আকর্ষণ। মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষকে সামনে রেখে তাঁকে বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাচ্ছে নবারুণ সংঘ। মণ্ডপসজ্জায় জায়গা পেয়েছে উত্তমকুমার অভিনীত বিভিন্ন চলচ্চিত্রের ছবি। পাশাপাশি মহানায়কের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের নানা মুহূর্তও তুলে ধরা হয়েছে আলোকচিত্রের মাধ্যমে।

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে উত্তমকুমার শুধু একজন অভিনেতা নন, বাঙালির আবেগ ও নস্টালজিয়ার অন্যতম প্রতীক। তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্র দেখে বড় হওয়া দর্শনার্থীদের কাছে এই আয়োজন ফিরিয়ে আনতে পারে বহু পুরনো স্মৃতি। অন্যদিকে, নতুন প্রজন্মের কাছেও মহানায়ককে নতুনভাবে চেনার সুযোগ করে দেবে এই বিশেষ মণ্ডপসজ্জা। একদিকে মন্দিরের শৈল্পিক ভাবনা, অন্যদিকে বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের স্মৃতিচারণ—দুইয়ের মেলবন্ধনেই দর্শনার্থীদের মন জয় করতে চাইছেন উদ্যোক্তারা।

শুধু দুর্গাপুজোর আয়োজনেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেননি নবারুণ সংঘের সদস্যরা। সারা বছর ধরেই বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকে এই ক্লাব। দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বস্ত্র বিতরণ এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির পাশাপাশি মরণোত্তর দেহদান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতেও উদ্যোগী হন ক্লাবের সদস্যরা। মৃত্যুর পরেও মানবকল্যাণে অবদান রাখার বার্তা সমাজের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের অন্যতম উদ্দেশ্য।

৭৩ বছরের ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে এবার শিল্প, সংস্কৃতি ও সমাজসেবার এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটাতে চলেছে রাজপুর নবারুণ সংঘ। কল্পতরু মন্দিরের শৈল্পিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি মহানায়ক উত্তমকুমারের স্মৃতিতে সাজানো বিশেষ আয়োজন দর্শনার্থীদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলেই আশাবাদী উদ্যোক্তারা। তাই এবারের দুর্গাপুজোয় রাজপুরে ঠাকুর দেখতে গেলে দর্শনার্থীদের পুজো পরিক্রমার তালিকায় জায়গা করে নিতে পারে এম এন রায় রোডের নবারুণ সংঘের পুজো। এখানে মন্দিরের শিল্পকলার পাশাপাশি ফিরে দেখা যাবে বাঙালির চিরকালের মহানায়কের নানা স্মরণীয় মুহূর্তও।