বাংলাদেশের আদলে সরকার বদলের চেষ্টা কংগ্রেসের: রাজনাথ সিং

নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কংগ্রেস ও তার সহযোগী দলগুলির বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে এবার কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ শানাল কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার লখনউয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং নেতৃত্ব দিয়ে অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যুবসমাজের নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ছড়ানোর চেষ্টা করছে কংগ্রেস ও তার সহযোগী দলগুলি। তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশে যে ধরনের পরিস্থিতির মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হয়েছিল, ভারতেও সেই আদলে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

তিনি আরও অভিযোগ করেন, যুবসমাজকে ‘বিশৃঙ্খলার রাজনীতিতে ঘুঁটি’ হিসেবে ব্যবহার করে বিরোধীরা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। রাজনাথ সিং বলেন, “গত কয়েক দিনে দিল্লিতে যে ঘটনাগুলি ঘটেছে, তা একাধিক গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। মনে হচ্ছে, কংগ্রেস ও তাদের রাজনৈতিক সহযোগীরা প্রত্যক্ষভাবে এবং নিজেদের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলির মাধ্যমে যুবসমাজের শক্তিকে গঠনমূলক কাজ ও দেশ গঠনের কাজে ব্যবহার না করে রাজনৈতিক সংঘাত এবং বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।”

তিনি আরও বলেন, “দেশের যুবসমাজকে বিশৃঙ্খলার রাজনীতিতে ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে। কেউ কেউ বাংলাদেশের ঘটনাবলির আদলে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন এবং প্রকাশ্যেই স্বীকার করছেন যে তাঁরা বাংলাদেশের পরিস্থিতি থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। অন্যদিকে, কেউ কেউ নির্লজ্জভাবে সরকার ফেলে দেওয়ার ডাক দিচ্ছেন। এর থেকেই স্পষ্ট যে, তাঁদের একমাত্র উদ্দেশ্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ধ্বংস করা এবং দেশে অশান্তি ছড়ানো।

“তাঁদের লড়াই নির্বাচনী সংস্কারের জন্য নয়, এসআইআর (SIR) বা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের জন্যও নয়। দেশের যুবসমাজের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্যও এই লড়াই নয়। বরং দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে ক্ষমতা দখলের এটি একটি ষড়যন্ত্র।”তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী সংস্কার এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কেন্দ্র করে চলা প্রতিবাদকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে ইন্ডিয়া (INDIA) জোট। এর মাধ্যমে দেশে অস্থিরতা তৈরি করে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি।

রাজনাথ সিং আরও বলেন, “ভারতের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে রাজনৈতিক স্বার্থে বলি দেওয়া যায় না। এই বিষয়টি বুঝতে হবে। মিথ্যা ক্ষোভ প্রকাশ, প্রতিষ্ঠানগুলির ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা এবং রাজনৈতিক সুবিধাবাদ দিয়ে ভারতের উন্নয়নের যাত্রাকে ব্যাহত করা যাবে না। বিঘ্ন সৃষ্টির রাজনীতি না করে রাহুল গান্ধীর উচিত জনসাধারণের রায়কে সম্মান জানানো এবং নিজের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আত্মসমীক্ষা করা।” নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে বিরোধী নেতারা, ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলি এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের ধারাবাহিক বিক্ষোভের মধ্যেই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই আক্রমণ সামনে এল।