গাজায় প্রবেশের পথ খুলতে ইজরায়েলকে চাপ চিনের

পশ্চিম তীরে জোর করে বসতি স্থাপনের কার্যকলাপ বন্ধ করে সেখান থেকে সরে আসার জন্য ইজরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। একই সঙ্গে গাজা ভূখণ্ডে প্রবেশের পথ সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। মানবিক সংকটের আরও অবনতি রোধ করা এবং প্যালেস্তাইন সমস্যার সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপর জোর দিয়েছেন চিনের বিদেশমন্ত্রী।বৃহস্পতিবার আজারবাইজানের বাকুতে এশিয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত সপ্তম সম্মেলন (CICA) চলাকালীন ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের সঙ্গে বৈঠকে এই মন্তব্য করেন ওয়াং ই।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

চিনের তরফে প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, ওয়াং বলেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি কাজ হল গাজায় প্রবেশের পথ সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষকে আরও গভীর সংকটের মুখে পড়া থেকে রক্ষা করা। গাজার মানবিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই মুহূর্তে জরুরি কাজ হল গাজা ভূখণ্ডে প্রবেশের পথ সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া, যাতে ২০ লক্ষ সাধারণ মানুষকে জীবনধারণের জন্য চরম সংকটের মধ্যে লড়াই চালিয়ে যেতে না হয় এবং মানবিক বিপর্যয় আরও ছড়িয়ে পড়া রোধ করা যায়।”

একই সঙ্গে পশ্চিম তীরে ইজরায়েলের বসতি স্থাপনের কার্যকলাপ বন্ধ করারও আহ্বান জানান চিনের বিদেশমন্ত্রী। তিনি পুনরায় স্পষ্ট করেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্যালেস্তাইন সমস্যার সমাধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।চিনের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “একই সময়ে পশ্চিম তীরে জোর করে বসতি স্থাপনের কার্যকলাপও ইজরায়েলের বন্ধ করা উচিত এবং এই ধরনের পদক্ষেপ থেকে সরে আসা উচিত।” ওয়াং ই জোর দিয়ে বলেন, প্যালেস্তাইন সমস্যার সমাধানের জন্য দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই উপযুক্ত পথ। তাঁর মতে, এই সমস্যা দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক অবিচারের সঙ্গে জড়িত, যার রাজনৈতিক সমাধান জরুরি।

বিবৃতিতে ওয়াং বলেন, “চিন বরাবরই মনে করে, প্যালেস্তাইন সমস্যা এই শতাব্দীর অন্যতম বৃহত্তম ঐতিহাসিক অবিচার। এই সমস্যার সমাধানের সঠিক পথ হল দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান।” তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ। আলোচনা, পারস্পরিক পরামর্শ এবং পুনর্মিলনের উদ্যোগ ছাড়া এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

ওয়াং বলেন, “এই অঞ্চলে শান্তি ও পুনর্মিলন এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই চিনের মধ্যপ্রাচ্য নীতির মূল ভিত্তি।” তিনি জানান, সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে আলোচনায় ফিরিয়ে আনা এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে পেতে আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে প্রস্তুত বেজিং।বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চিনের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন ওয়াং। তিনি জানান, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চলতি বছরের শুরু থেকেই এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একাধিক প্রস্তাব পেশ করেছেন।

ওয়াংয়ের বক্তব্য, এই অঞ্চলে অভিন্ন, সার্বিক, সহযোগিতামূলক এবং দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত চিন।ইজরায়েলি এবং প্যালেস্তিনীয় উভয় জনগোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণভাবে বেঁচে থাকার অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকারের উপরও জোর দেন চিনের বিদেশমন্ত্রী। তিনি জানান, আলোচনার মাধ্যমে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার পক্ষেই রয়েছে বেজিং।

ওয়াং বলেন, “প্যালেস্তাইন সমস্যাই মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যার মূল। ইহুদি এবং প্যালেস্তিনীয় উভয় জনগোষ্ঠীরই শান্তিপূর্ণভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকারও রয়েছে।”তিনি আরও বলেন, সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষ আলোচনার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার বজায় রাখলে এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথে এগিয়ে গেলে ভবিষ্যতে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।বৈঠকে চিন ও ইজরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

চিনের প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, হারজোগ বলেন, চিনা ও ইহুদি জনগোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও আদানপ্রদানের ইতিহাস রয়েছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী যুদ্ধের সময়ও দুই জনগোষ্ঠী একে অপরকে সহযোগিতা করেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি, ‘এক চিন নীতি’র প্রতি ইজরায়েলের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বেজিংয়ের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে ইজরায়েলের অবস্থানও তুলে ধরেন হারজোগ। তিনি জানান, তাঁর দেশ শান্তি চায়, তবে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিভিন্ন হুমকি ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যার মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় চিনের ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি, বেজিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে ইজরায়েলের আগ্রহের কথা জানান।