সপ্তমী সন্ধ্যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায। পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে উৎসবমুখর বাংলায়। উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা
ভারী বৃষ্টিতে মণ্ডপের ভিতরে দর্শনার্থী আটকে গিয়ে তুমুল বিশৃঙ্খলা ও হুড়োহুড়ির জেরে ৩৫ জনের বেশি পদপিষ্ট হয়। অধিকাংশের ভিড়ের চাপে দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে। উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। এই বিপর্যয়ের জেরে প্রশাসনের তরফ থেকে কড়া পদক্ষেপের পাশাপাশি বড় ঘোষণা করা হয়েছে।
আটক ও গ্রেফতার: এই ঘটনায় পুজো কমিটির সদস্য এবং আয়োজকদের একাংশ সহ মোট ১৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও আটকের খবর পাওয়া গেছে। পুজো মণ্ডপটি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি: ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর আর্থিক সাহায্য ও চাকরি ঘোষণা: নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বড় ঘোষণা করেছেন যে, প্রতিটি মৃত ব্যক্তির পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য এবং পরিবারের একজনকে রাজ্য সরকারের ‘গ্রুপ ডি’ (Group D) পদে চাকরি দেওয়া হবে। পাশাপাশি আহতদের প্রত্যেককে ৫ লক্ষ টাকা করে সাহায্য এবং তাঁদের সম্পূর্ণ চিকিৎসার খরচ রাজ্য সরকার বহন করবে বলে জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সাহায্য: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পক্ষ থেকেও পিএমও (PMO)-র তরফে নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃষ্টির জেরে ভিড় এবং মণ্ডপে হুড়োহুড়ির জেরে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। এই নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতেও তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।