মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজোয় বিপর্যয়। ঠাকুর দেখতে গিয়ে অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। আহত অন্তত ২৫ জন। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে শহরে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে চোরবাগানের পুজো।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
চোরবাগান মণ্ডপে হুড়োহুড়ি, পদপিষ্ট হয়ে মৃত ও আহতদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে মেডিক্যাল কলেজ, এনআরএস এবং আরজি কর হাসপাতালে। রাতেই হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যসচিব এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
মৃতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সাহায্য এবং সরকারি চাকরির ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, মৃতদের পরিবারপিছু ২৫ লক্ষ টাকা এবং পরিবারের এক জনকে গ্রুপ ডি পদে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। আহতদের ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ বহন করবে রাজ্য সরকার। আহতেরা যে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে চাইবেন, সেই ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে সিট গঠনের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘আমরা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখব, তিনি যাতে একজন বর্তমান বিচারপতিকে নিয়োগ করেন। তাঁর তদারকিতেই বিশেষ তদন্তকারী দল গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখা হবে।”
শুভেন্দুর দাবি, রাত ৮টা ২০ মিনিট নাগাদ পুলিশ কমিশনারের কাছ থেকে প্রথম দুর্ঘটনার খবর পান তিনি। শুভেন্দু বলেন, ‘‘আমি এটা নিয়ে রাজনীতি করতে চাই না। শোকের আবহে একযোগে কাজ করতে চাই।’’
কেন এই বিপর্যয়, তা খতিয়ে দেখতে সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ফুটেজে যদি দেখা যায় পুলিশ কমিশনার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন, তা হলে তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে। ইতিমধ্যেই পুজোর পাঁচ উদ্যোক্তা-সহ মোট ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবকদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এই ঘটনার জেরে আগামী দিনের সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠান স্থগিত রাখার কথা ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘মায়ের পুজো বন্ধ করা যায় না। কিন্তু সরকার কোনও রকম উৎসবে থাকবে না।’’ পুজো উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘‘থিমের থেকে জীবন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’’
২০১৫ সালে দেশপ্রিয় পার্কের পুজোয় ভিড়ের কারণে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলার স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে চোরবাগানের ঘটনা। এই পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনীতি না করার আবেদন জানালেও, অতীতের একাধিক দুর্ঘটনা ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের পাল্টা নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, পুজোর ভিড় সামলাতে উদ্যোক্তা ও প্রশাসনকে আরও সতর্ক হতে হবে।