চোরবাগানে আহতদের দেখতে হাসপাতালে শাহ-শুভেন্দু

মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজোয় পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকস্তব্ধ শহর। আহতদের দেখতে রবিবার কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে গেলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

এই ঘটনায় পুজো কমিটির সম্পাদক-সহ সাত জনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। দুর্ঘটনার পর শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় তিন দিনের জন্য জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞাও।

শনিবার রাতের মর্মান্তিক ঘটনার পরেই সমাজমাধ্যমে শোকপ্রকাশ করেন শাহ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দুর্ঘটনার জেরে পশ্চিমবঙ্গে তাঁর নির্ধারিত কর্মসূচিও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দেবী দুর্গার কাছে প্রার্থনা করেন তিনি।

এ দিকে, দুর্ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কলকাতার কিছু এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করেছেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ। ১৮ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত, অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। বউবাজার থানার আওতাধীন কলেজ স্ট্রিট, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, কলোতলা স্ট্রিট এবং ইডেন হাসপাতাল রোডের মধ্যবর্তী এলাকায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, লাঠি বা বিপজ্জনক অস্ত্র বহন এবং শান্তিভঙ্গ করতে পারে এমন কাজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সম্ভাব্য বিক্ষোভ ও হিংসার আশঙ্কা থেকেই এই পদক্ষেপ বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

অন্য দিকে, পদপিষ্টের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৫, ১১০ এবং ৩(৫) ধারায় দায়ের হয়েছে মামলা। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন পুজো কমিটির সম্পাদক রাজকুমার সেওড়া ওরফে রাজা, সহ-সভাপতি শান্তনু দুবে এবং বাঁশের কাঠামো তৈরির দায়িত্বে থাকা বিপ্লব মুখোপাধ্যায় ওরফে জয়। এ ছাড়াও ভিড় নিয়ন্ত্রণ, ভিআইপি পাস পরীক্ষা এবং বেসরকারি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আরও চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।