চোরবাগান-কাণ্ডের জের, বড় পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রীর!

চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজোয় পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় নড়েচড়ে বসল রাজ্য প্রশাসন। শহরের বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে এ বার থেকে আর থাকছে না ভিআইপি বা এলআইপি-দের জন্য আলাদা লাইন। সবাইকে একই লাইন দিয়ে প্রতিমা দর্শন করতে হবে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

রবিবার ভবানীভবনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে আগামী ২৬ অক্টোবর রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানও আড়ম্বরহীন ভাবে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শনিবার রাতে চোরবাগানের পুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর পরেই বড় পুজোগুলির নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। রবিবার ভবানীভবনে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু জানান, রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সচিব, দমকলের ডিজি অনুজ শর্মা এবং এসটিএফের এডিজি জাভেদ শামিমের নেতৃত্বে ওই দল কাজ শুরু করেছে।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, শহরের সমস্ত পুজো মণ্ডপের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখবে এই দল। প্রয়োজনে ঘটনাস্থলেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ভিড়ের পরিস্থিতি বুঝে দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে। তবে ভিআইপি বা এলআইপি-দের জন্য আলাদা প্রবেশপথ কিংবা লাইন থাকবে না। শনিবারের দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন তিনি।

অন্য দিকে, চোরবাগান-কাণ্ডের আবহে বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানেও জৌলুস কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। আগামী ২৬ অক্টোবর সমস্ত পুজো কমিটিকে ডাকা হবে। ওই অনুষ্ঠানে দুর্ঘটনায় মৃত ১৯ জনের স্মরণে শ্রদ্ধা জানানো হবে। পাশাপাশি আহতদের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

শোকস্তব্ধ পরিবারগুলির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে শুভেন্দু বলেন, আগামী দু’-তিন দিন তিনি তাঁদের পাশে থাকবেন। কী ভাবে এই বিপর্যয় ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং দলও গঠন করা হয়েছে।