কলকাতা দুর্গাপুজোর সপ্তমীর রাতে চোরবাগান সর্বজনীন পুজো মণ্ডপের মর্মান্তিক হুড়োহুড়ি ও পদপিষ্টের ঘটনায় এক হবু দম্পতির স্বপ্ন চূর্ণ হয়ে গেছে।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা
চোখের সামনে হবু স্ত্রী স্নেহা ভাণ্ডারীকেই (২০) হারিয়ে শোকে ও কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অভিষেক মণ্ডল।ঘটনার পটভূমি ও আনন্দ বিষাদে রূপ নেওয়াদক্ষিণ ২৪ পরগনার বাখরাহাটের বাসিন্দা স্নেহা ভাণ্ডারী এবং একই এলাকার অভিষেক মণ্ডলের মধ্যে বিয়ের পাকা কথা হয়ে গিয়েছিল। আগামী বছরেই তাঁদের চার হাত এক হওয়ার কথা ছিল। পুজোর সপ্তমীর আনন্দ উপভোগ করতে এবং একসঙ্গে ভবিষ্যতের রঙিন স্বপ্ন বুকে নিয়ে তাঁরা দু’জনে কলকাতা শহরে পুজো পরিক্রমায় বেরিয়েছিলেন। কিন্তু কে জানত এই আনন্দই তাঁদের জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডিতে পরিণত হবে।

২. ঠিক কী ঘটেছিল চোরবাগান মণ্ডপে?ঝটিকা বৃষ্টি ও বিশৃঙ্খলা: সপ্তমীর সন্ধ্যায় হঠাৎই প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। এর জেরে রাস্তায় তীব্র যানজটের পাশাপাশি বৃষ্টি থেকে বাঁচতে বহু মানুষ একযোগে চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপের ভেতরে হুড়োহুড়ি করে ঢুকতে শুরু করেন। বেরোনোর পথ বন্ধ থাকার অভিযোগ: অভিষেকের অভিযোগ অনুযায়ী, মণ্ডপের ভিড় নিয়ন্ত্রণের জায়গাটায় সে সময় বেরোনোর পথ বন্ধ করে রাখা হয়েছিল, কেবল প্রবেশের পথটিই খোলা ছিল। এর ফলে বাইরে বের হতে না পেরে মানুষ ভেতরেই আটকে পড়েন এবং চরম ঠেলাঠেলি ও পদপিষ্টের পরিস্থিতি তৈরি হয়। গুজব ও প্যানিক: দমকল মন্ত্রী ও অন্যান্য সূত্রে জানা গেছে, মণ্ডপের ভিতর অন্ধকার লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো এবং প্যান্ডেলের কাঠামো ঘিরে কিছু একটা অপ্রীতিকর বা প্যান্ডেল ভেঙে পড়ার গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। এর ফলেই দর্শনার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বা প্যানিক ছড়িয়ে পড়ে। ৩. অভিষেকের অসহায়তা ও কান্নাভিড়ের চাপ এবং হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়ে যান স্নেহাও। অভিষেক নিজে কোনও রকমে ভিড়ের মধ্য থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও, চোখের সামনে তাঁর হবু স্ত্রীকে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখেন। হুড়োহুড়ির সেই তাণ্ডবে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন স্নেহা। অভিষেক তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি। হবু স্ত্রীকে বাঁচিয়ে তুলতে না পারার গভীর যন্ত্রণা এবং চোখের সামনে তাঁকে হারানোর তীব্র আঘাত কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না অভিষেক। তাঁর আর্তনাদ ও কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে বাখরাহাটের বাতাস। ৪. সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপচোরবাগানের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের পাশাপাশি মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য ও সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। পুজো দেখতে এসে এমন আকস্মিক ও নৃশংস পরিণতিতে শোকস্তব্ধ গোটা রাজ্য।