গঙ্গার তীরে ঐতিহ্য আর আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধন। ১২৫ বছরে পা দিল বেলুড় মঠের দুর্গাপুজো। স্বামী বিবেকানন্দের উদ্যোগে ১৯০১ সালে যে পুজোর সূচনা হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা হয়ে উঠেছে বাংলার অন্যতম আকর্ষণীয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান। প্রতি বছরের মতো এ বারও দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে ভক্তদের ঢল নেমেছে হাওড়ার বেলুড় মঠে। বিশেষ করে কুমারী পুজো দেখতে সকাল থেকেই ভিড় জমিয়েছেন অগণিত মানুষ।

রণজিৎ রায়, নিজস্ব সংবাদদাতা
মঠ সূত্রে জানা যায়, ১৯০১ সালের ১৮ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর দিন প্রথম দুর্গাপুজোর আয়োজন করেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। সেই শুরু। তার পর থেকে দীর্ঘ ১২৫ বছর ধরে প্রাচীন রীতি ও পরম্পরা মেনে চলে আসছে এই পুজো। ২০২৬ সালে সেই ঐতিহাসিক পুজো ১২৫ বছর পূর্ণ করল। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এই পুজো রামকৃষ্ণ ভাবধারার এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য হিসাবেও পরিচিত।
বেলুড় মঠের দুর্গাপুজোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ কুমারী পুজো। শাস্ত্রীয় রীতি মেনে কুমারীর মধ্যে দেবী দুর্গার মাতৃরূপের আরাধনা করা হয়। বিশ্বাস, কুমারীর মধ্যে দেবীত্বের প্রকাশ রয়েছে। তাই এই পুজো দেখতে প্রতি বছর দূরদূরান্ত থেকে বহু ভক্তের সমাগম হয় মঠে।

এ বারও সকাল ৯টায় বেলুড় মঠে শুরু হয় কুমারী পুজো। কুমারী হিসাবে পুজো করা হয় দেবার্দ্রিতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর বয়স ৫ বছর ৯ মাস ২১ দিন। তাঁর বাবা সৌমকান্তি বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মা চন্দ্রলেখা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্দিষ্ট আচার মেনে কুমারীকে দেবীরূপে আরাধনা করেন সন্ন্যাসীরা। সেই পুজো ঘিরে ভক্তদের মধ্যে ছিল বিশেষ উৎসাহ।
এক শতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে আজও বেলুড় মঠের দুর্গাপুজো তার ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক আবহ অক্ষুণ্ণ রেখেছে। ১২৫ বছরের এই মাইলফলক সেই দীর্ঘ পরম্পরারই স্মারক। গঙ্গার ধারে মঠের শান্ত পরিবেশে দেবী আরাধনা, ভক্তদের সমাগম এবং কুমারী পুজো—সব মিলিয়ে এ বারও বেলুড় মঠের দুর্গোৎসব হয়ে উঠেছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।