ভিড়ের চাপে বিপদ! কারা থাকবেন সাবধান?

একবার ভাবুন তো, আপনি হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে দাঁড়িয়ে আছেন! চারপাশে শুধু মানুষ আর মানুষ। হঠাৎ ভিড় বাড়তে শুরু করল, সামনে এগোনোর জায়গা নেই, পিছন থেকে মানুষ ধাক্কা দিচ্ছে!

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

এই পরিস্থিতিতে কারও শ্বাসকষ্ট শুরু হতে পারে, কারও মাথা ঘুরতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে পরিস্থিতি প্রাণঘাতীও হয়ে উঠতে পারে!

কিন্তু জানেন কি, প্রচণ্ড ভিড়ে কিছু মানুষের বিপদের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় বেশি?
শুধু কোন পূজা মন্ডপ নয় ,ভিড় বাস,ট্রেন,যে কোন ভিড় কোন জায়গায় এমন ঘটনা ঘটতে পারে

১)প্রথমেই রয়েছেন হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা।

যাঁদের আগে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, হার্টের রক্তনালিতে সমস্যা রয়েছে, কিংবা অল্প হাঁটলেই বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট হয়, তাঁদের প্রচণ্ড ভিড়ে বিশেষ সতর্ক থাকা দরকার। কেন?

দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা, অতিরিক্ত গরম, পানিশূন্যতা, শারীরিক পরিশ্রম এবং মানসিক চাপ শরীরের উপর বাড়তি চাপ ফেলতে পারে।

মনে রাখবেন, বুকে চাপ বা ব্যথা, ঠান্ডা ঘাম, অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট কিংবা হঠাৎ দুর্বলতা দেখা দিলে সেটাকে শুধু ক্লান্তি ভেবে উপেক্ষা করবেন না।

দ্রুত নিরাপদ জায়গায় যাওয়ার সাহায্য নিন এবং জরুরি চিকিৎসা নিন।”
২)যাঁদের হাঁপানি বা অন্য কোনও শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে।

প্রচণ্ড ভিড়ে ধুলোবালি, ধোঁয়া, গরম আবহাওয়া এবং অতিরিক্ত পরিশ্রম শ্বাসকষ্ট বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিশেষ করে যাঁদের হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে নেই, তাঁদের আগে থেকেই সতর্ক থাকা উচিত।

বাইরে বেরোনোর সময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত রিলিভার ইনহেলার সঙ্গে রাখুন।

কিন্তু একটা বিষয় মনে রাখবেন—ভিড়ের মধ্যে শ্বাস নিতে কষ্ট হলে শুধু আতঙ্ক বা হাঁপানির সমস্যা বলে ধরে নেবেন না। ভিড়ের চাপে বুক আটকে যাওয়াও বিপজ্জনক হতে পারে।
শ্বাসকষ্ট বাড়লে দ্রুত সাহায্য চান। কথা বলতে না পারা, ঠোঁট নীল হয়ে যাওয়া বা অজ্ঞান হয়ে আসা জরুরি বিপদের লক্ষণ।”

৩) বয়স্ক মানুষ।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের ভারসাম্য, হাঁটার ক্ষমতা এবং দ্রুত পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা কমে যেতে পারে।

ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ ধাক্কা লাগলে পড়ে যাওয়া, পায়ে আঘাত পাওয়া কিংবা অন্য মানুষের পায়ের নিচে চাপা পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তার উপর দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা, গরম এবং জল শূণ্যতা থেকে মাথা ঘোরা বা দুর্বলতাও দেখা দিতে পারে।

তাই বয়স্ক ব্যক্তিদের খুব ঘন ভিড় এড়িয়ে চলা, বিশ্রামের ব্যবস্থা রাখা এবং সম্ভব হলে পরিচিত কারও সঙ্গে যাওয়া ভালো।

মনে রাখবেন, ভিড়ের মধ্যে পড়ে গেলে উঠে দাঁড়ানোর সুযোগ সব সময় পাওয়া যায় না। তাই বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
৪)ছোট শিশু।

শিশুরা ভিড়ের মধ্যে সহজেই অভিভাবকের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। বড়দের তুলনায় তারা ধাক্কা সামলাতেও কম সক্ষম।

বিশেষ করে খুব ঘন ভিড়ে শিশুকে নিয়ে এগোনো বিপজ্জনক হতে পারে।

তাই শিশুকে কখনও একা ছেড়ে দেবেন না। তার হাত ধরে রাখুন এবং ভিড়ের মধ্যে প্রবেশের আগে ঠিক করে নিন, আলাদা হয়ে গেলে কোথায় দেখা করবেন।

শিশুকে এমন পরিচয়পত্র বা ফোন নম্বর দিন, যা প্রয়োজনে কাজে লাগতে পারে।

আর একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা—ভিড় অতিরিক্ত ঘন হয়ে গেলে শিশুকে নিয়ে জোর করে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না।

শিশুর নিরাপত্তা আগে, অনুষ্ঠান বা দর্শন পরে এমন কী ভিড় বা বাস ট্রেনে নয়

৫. গর্ভবতী নারী

গর্ভাবস্থায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা, গরমে অস্বস্তি, জলশূন্যতা এবং ধাক্কাধাক্কি বিশেষ সমস্যা তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে গর্ভাবস্থার শেষ দিকে ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হতে পারে।

তাই খুব ঘন ভিড়ের অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলা, বিশ্রামের সুযোগ রাখা এবং প্রয়োজনমতো জল পান করা গুরুত্বপূর্ণ।

যদি মাথা ঘোরে, তীব্র পেটব্যথা হয়, রক্তপাত হয় বা শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

গর্ভাবস্থায় কোনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার চেয়ে মা ও শিশুর নিরাপত্তা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”
৬) ডায়াবেটিস এবং রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন যাঁরা।

দীর্ঘক্ষণ খাবার না খেয়ে থাকা, অতিরিক্ত হাঁটাহাঁটি, গরম এবং জলশূন্যতার কারণে কিছু মানুষের রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যেতে পারে বা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।

আবার নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের প্রভাবে গরমে মাথা ঘোরার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

তাই বাইরে যাওয়ার আগে নিজের ওষুধ, খাবার এবং বিশ্রামের পরিকল্পনা রাখুন।

ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় খাবার ও গ্লুকোজ সঙ্গে রাখতে পারেন।

তবে হঠাৎ ঘাম, কাঁপুনি, বিভ্রান্তি বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করবেন না।

আর নিজের ইচ্ছায় ওষুধ বন্ধ করবেন না বা ডোজ পরিবর্তন করবেন না।”
৭) যাঁরা সম্প্রতি অসুস্থতা থেকে সেরে উঠেছেন, রক্তাল্পতায় ভুগছেন, শরীরে খুব দুর্বলতা রয়েছে অথবা সহজেই মাথা ঘুরে যায়।

প্রচণ্ড ভিড়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা এবং দ্রুত চলাফেরা তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষ করে জ্বর, বমি, ডায়রিয়া বা পানিশূন্যতা থাকলে ভিড়ের মধ্যে যাওয়া আরও সমস্যার কারণ হতে পারে।

মাথা ঘোরা, চোখে অন্ধকার দেখা বা হঠাৎ দুর্বল লাগলে জোর করে এগোবেন না।

তবে ভিড়ের চাপে আটকে গেলে শুধু বসে পড়ার চেষ্টা করাও বিপজ্জনক হতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করুন এবং জরুরি সহায়তা চান।”
অষ্টমত, যাঁরা খুব সহজে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বা বদ্ধ জায়গায় অস্বস্তি অনুভব করেন।

ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ শ্বাস নিতে অসুবিধা হচ্ছে বলে মনে হওয়া, বুক ধড়ফড় করা বা মাথা ঘোরা শুরু হতে পারে।

কিন্তু মনে রাখবেন, ভিড়ের মধ্যে সব শ্বাসকষ্টই আতঙ্কের কারণে হয় না।

যদি চারপাশের মানুষ হঠাৎ ধাক্কা দিতে শুরু করেন, সামনে যাওয়ার জায়গা না থাকে বা শরীরের উপর চাপ অনুভব করেন, তাহলে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হতে পারে।

এমন অবস্থায় পাল্টা ধাক্কাধাক্কি করবেন না, উল্টো দিকে জোর করে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না এবং আতঙ্ক ছড়াবেন না।

সম্ভব হলে ভিড়ের প্রবাহের সঙ্গে স্থিরভাবে চলুন, হাত বুকের সামনে রেখে কিছুটা জায়গা বজায় রাখার চেষ্টা করুন এবং নিরাপদ পাশের পথ বা বেরোনোর রাস্তার দিকে এগোন।

মনে রাখবেন, শান্ত থাকার চেষ্টা করা জরুরি, কিন্তু বিপদের লক্ষণকে কখনও অবহেলা করবেন না।”
এবার জেনে নিন, ভিড়ের মধ্যে কোন লক্ষণ দেখলে দ্রুত সতর্ক হবেন।

যদি দেখেন—

মানুষের ধাক্কায় নিজের ইচ্ছামতো চলতে পারছেন না।

বুকের উপর প্রচণ্ড চাপ পড়ছে বা শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।

চারপাশে মানুষ পড়ে যাচ্ছেন।

বেরোনোর পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

আপনার পা মাটি থেকে উঠে যাচ্ছে বা শরীরের উপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন।