বিশ্বজুড়ে চলতে থাকা সংঘাতের সমাধানে আলোচনা ও কূটনীতির পথে হাঁটার আহ্বান জানালেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। মঙ্গলবার তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবেতে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর সদস্য দেশগুলির সরকারপ্রধানদের কাউন্সিলের বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “যুদ্ধের জবাব কখনও যুদ্ধ হতে পারে না।” বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে উত্তেজনা ও সংঘাতের পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতি ভারতের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন রাজনাথ। তাঁর মতে, সামরিক সংঘাত কেবল হিংসার দীর্ঘস্থায়ী চক্র তৈরি করবে।রাজনাথ সিং বলেন, “বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় সংঘাত দেখা যাচ্ছে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
এই সংঘাতগুলির সমাধান একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব। যুদ্ধের জবাব কখনও যুদ্ধ হতে পারে না। এর ফলে কেবল অন্তহীন যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হবে। তাই ভারত আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে সংঘাতের সমাধানে বিশ্বাসী।”সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার এবং সংগঠিত অপরাধ মোকাবিলায় SCO-র সদস্য দেশগুলির মধ্যে আরও শক্তিশালী সহযোগিতার আহ্বান জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের হুমকি আঞ্চলিক শান্তি, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে।রাজনাথ বলেন, “সন্ত্রাসবাদ শুধু নিরীহ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয় না, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যকেও ব্যাহত করে। এটি সমাজে উগ্রপন্থার প্রসার ঘটায় এবং যুবসমাজকে তাদের প্রাপ্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে।” সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় কোনও দ্বিচারিতা থাকা উচিত নয় বলেও জোর দেন তিনি। সন্ত্রাসবাদীদের অর্থ জোগানদাতা, সাহায্যকারী এবং নিরাপদ আশ্রয়দাতাদের পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদকে মদত জোগানো গোটা ব্যবস্থাকে সম্মিলিতভাবে ভেঙে ফেলার আহ্বান জানান রাজনাথ। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারও।
বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় জোর ভারতেরঅর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রসঙ্গে ২০২৬–২০৩০ সালের জন্য বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কর্মসূচি বাস্তবায়নের অ্যাকশন প্ল্যানকে সমর্থন জানিয়েছেন রাজনাথ সিং। তাঁর মতে, এই উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে সীমান্তপারের বাণিজ্য এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগ কতটা উন্নত হচ্ছে, তার উপর।তিনি বলেন, “শুল্ক ছাড়ের প্রক্রিয়া দ্রুত করা, বিভিন্ন দেশের মানদণ্ডের পারস্পরিক স্বীকৃতি, নির্ভরযোগ্য অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা এবং পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সূচি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্ষেত্রগুলিতে ভারত নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে প্রস্তুত।”SCO-র বৃহত্তর ভূমিকার কথা তুলে ধরে রাজনাথ বলেন, আঞ্চলিক মানুষের কাছে কতটা সুফল পৌঁছে দেওয়া যাচ্ছে, তার ভিত্তিতেই এই সংগঠনের গুরুত্ব বিচার করা উচিত।
মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্কের উল্লেখমধ্য এশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে ব্যবসায়ী, তীর্থযাত্রী এবং বিভিন্ন ভাবধারার আদানপ্রদান হয়েছে।দক্ষিণ তাজিকিস্তানের আজিনা টেপেতে অবস্থিত শায়িত বুদ্ধমূর্তির উল্লেখ করে রাজনাথ বলেন, ভারত থেকে বৌদ্ধধর্মের বিস্তার এই দীর্ঘস্থায়ী সাংস্কৃতিক যোগাযোগের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।বৈঠকের ফাঁকে তাজিকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কহির রাসুলজোদা এবং ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মহম্মদ রেজা আরেফের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন রাজনাথ সিং। দুই দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়।