বলিউড অভিনেতা সলমন খানের পর এবার কি লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নতুন টার্গেট অ্যাকশন কিং টাইগার শ্রফ? রবিবার সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের জুহু এলাকায় টাইগারের গাড়ি লক্ষ্য করে যেভাবে ৫ রাউন্ড গুলি চালানো হলো, তাতে কেঁপে উঠেছে গোটা মায়ানগরী! বরাত জোরে অভিনেতা প্রাণে বাঁচলেও, গুলি লেগেছে তাঁর ড্রাইভারের হাতে। কিন্তু মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুম্বই পুলিশ আর রাজস্থান পুলিশ এক যৌথ অপারেশনে ধরে ফেলেছে ৩ খতরনাক শুটারকে! ট্রেন থেকে নামিয়ে যেভাবে এদের গ্রেফতার করা হলো, তা কোনো বলিউড সিনেমার চেয়ে কম নয়। কিন্তু কারা এই অপরাধী? তদন্ত এখন কোন পর্যায়ে? আর কেন টাইগার শ্রফকে নিশানা করা হলো?

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
সূত্রের খবর, প্রতি রবিবার জুহুর ফুটবল মাঠে যান টাইগার। আর হয়তো টাইগারের সেই অভ্যাসের কথা জানত অভিযুক্তেরা। অভিনেতার গতিবিধির উপর নজর রেখে রবিবার মাঠ থেকে গাড়িতে ফেরার সময়ে তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে অনুমান। এই ঘটনার ঠিক পরেই তদন্তে নামে মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ এবং গঠন করা হয় ২০টি বিশেষ টিম। সিসিটিভি ফুটেজ এবং টেকনিক্যাল নজরদারির মাধ্যমে জানা যায়, অপরাধীরা মুম্বই থেকে পালিয়ে ট্রেনে চেপে দিল্লির দিকে যাচ্ছে এবং তাদের নেপালে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মুম্বই পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে অ্যালার্ট পাঠায় রাজস্থান পুলিশকে। যখন ‘পুণে-জয়পুর সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস’ রাজস্থানের কোটা স্টেশনে এসে থামে, তখনই সাধারণ কামরায় হানা দিয়ে ৩ শুটারকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে পুলিশ।
আপনারা জানলে অবাক হবেন, এই শুটারদের বয়স মাত্র ১৮ থেকে ২২ বছর! মুম্বই পুলিশের ডিসিপি রাজ তিলক রোশন জানিয়েছেন, ধৃতদের মধ্যে কেউ নাবালক নয়।১. প্রথমজন হলো বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা হৃতিক কুমার ওরফে রোশন। সে মুম্বইয়ের আন্ধেরিতে অ্যাপ ক্যাব চালক হিসেবে কাজ করতো এবং বাইক ট্যাক্সির আড়ালেই এই হামলার ছক কষেছিল।২. বাকি দু’জন ফুল সিং এবং রেহান ওরফে সুক্কা দুজনেই হরিয়ানার সোনিপতের বাসিন্দা। এদের রাজস্থান ও বিহার ট্রেইল থেকে ট্র্যাক করে এখন ট্রানজিট রিমান্ডে মুম্বই নিয়ে আসা হচ্ছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।

এবার আসা যাক সবচেয়ে বড় প্রশ্নে এই হামলার পিছনে কারা রয়েছে? এই হামলার পরপরই সোশাল মিডিয়ায় এই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং! জানা গেছে, বিদেশে বসে থাকা গ্যাংস্টার অনিল পণ্ডিত সরাসরি এই শুটারদের হ্যান্ডেল করছিল। হোয়াটসঅ্যাপ এবং সিগন্যাল অ্যাপের মাধ্যমে তাদের কাছে টাইগার শ্রফের জিম এবং ফুটবল গ্রাউন্ডের ম্যাপ পাঠানো হয়েছিল। শুটাররা টানা ১০ দিন ধরে টাইগারের ওপর রেইকি বা নজরদারি চালিয়েছিল। সূত্রের খবর, এই হামলার জন্য শুটারদের অগ্রিম ৫০ হাজার টাকাও দেওয়া হয়েছিল। দাবি করা হচ্ছে, সলমন খানের সাথে অভিনয় না করার জন্য টাইগারকে নাকি আগেই ওয়ার্নিং দেওয়া হয়েছিল, আর তা না শোনাতেই এই হামলা! যদিও পুলিশ এই দাবি খতিয়ে দেখছে।
তদন্ত এখন অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে এগোচ্ছে। মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চের অ্যান্টি-এক্সটরশন সেল মামলাটি নিজেদের হাতে নিয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং আর্মস অ্যাক্টের একাধিক ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। যদিও পুলিশ এখনও হামলার অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি, তবে ৩ শুটার পুলিশের জালে থাকায় মূল চক্রান্ত ফাঁস হওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা। ভারতের আইন অনুযায়ী, সুপারি কিলিং, গ্যাংস্টার অ্যাক্টিভিটি এবং খুনের চেষ্টার জন্য এই অপরাধীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা কঠোরতম শাস্তি হওয়া নিশ্চিত। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রীও আশ্বস্ত করেছেন, মুম্বইয়ে কোনো জঙ্গলরাজ চলবে না এবং অপরাধীদের রেয়াত করা হবে না।তবে এই নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। যেমন-বলিউডের সেলেব্রিটিদের নিরাপত্তা কি সত্যিই এখন বড়সড় হুমকির মুখে?