প্রতিমা বিসর্জনে কড়া নিরাপত্তা, ২৫টি লাইফ সেভিং নৌকা থাকছে

প্রতিমা বিসর্জন যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তার জন্য কলকাতা জুড়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে লালবাজার। গঙ্গার ঘাট থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন জলাশয় ও সরোবরে বাড়ানো হয়েছে পুলিশের নজরদারি। কলকাতার ২৮টি গঙ্গার ঘাট, আদিগঙ্গার পাঁচটি ঘাট এবং ৩৪টি জলাশয় ও সরোবরে মোতায়েন রয়েছেন পুলিশকর্মীরা। পাশাপাশি, বিসর্জনকে কেন্দ্র করে শহরের প্রায় ২০০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও এলাকায় বসানো হয়েছে পুলিশ পিকেট। গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে কলকাতা পুলিশ, যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই প্রতিমা বিসর্জন পর্ব সম্পন্ন হয়।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি প্রস্তুত কলকাতা পুরসভাও। শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘাটে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। খিদিরপুরের দহিঘাট, বাবুঘাট, আহিরীটোলা, কুমোরটুলি এবং বাজাকদমতলা ঘাটে মূলত প্রতিমা বিসর্জন হয়ে থাকে। এর মধ্যে বাজাকদমতলা, নিমতলা ও জাজেস ঘাটে বিসর্জনের ভিড় তুলনামূলক বেশি হয়। সেই কথা মাথায় রেখেই এই ঘাটগুলিতে বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরসভার তরফেও আলাদা আলাদা দল গঠন করা হয়েছে, যারা সকাল থেকেই ঘাটগুলিতে নজর রাখছেন। বিসর্জন পর্ব নির্বিঘ্নে শেষ করতে গভীর রাত পর্যন্ত এই নজরদারি ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা চালু থাকবে বলে জানা গিয়েছে।

মঙ্গলবার কলকাতা পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, বড় পুজোর পাশাপাশি ছোট বারোয়ারি পুজো এবং বাড়ির প্রতিমা বিসর্জনের ক্ষেত্রেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। যেসব পুকুর বা জলাশয়ে প্রতিমা বিসর্জন হবে, সেখানে নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘাটগুলিতে রাখা হয়েছে ডাস্টবিন। দশমী থেকেই সাফাইকর্মীরা ঘাটে উপস্থিত থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব সামলাবেন।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল থেকেই বিসর্জনের নিরাপত্তা সামলাতে বিভিন্ন ঘাটে বাহিনী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সাধারণত বিসর্জনের প্রথম দিন, অর্থাৎ বুধবার, বাড়ির প্রতিমা এবং কয়েকটি বারোয়ারি পুজোর প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়। অন্য পুজো উদ্যোক্তারা মূলত দ্বিতীয় দিন থেকে বিসর্জন শুরু করেন।গঙ্গায় কোনও দুর্ঘটনা এড়াতে থাকছে ২৫টি ‘লাইফ সেভিং’ নৌকা। এই নৌকাগুলিতে পুলিশকর্মীদের পাশাপাশি থাকবেন অভিজ্ঞ মাঝি ও উদ্ধারকর্মীরা। নিমতলা, বাজাকদমতলা, গোয়ালিয়র ঘাট এবং গার্ডেনরিচে চারটি যন্ত্রচালিত নৌকা দিয়ে চলবে নজরদারি। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য নৌকাগুলিতে দড়ি ও হুকের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।এ ছাড়া, ওই চারটি ঘাটে সাঁতারে দক্ষ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের (ডিএমজি) কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে। গঙ্গার অন্তত ৩০টি ঘাট ও জলাশয়ে ডিএমজি কর্মীরা নজরদারি চালাবেন। বিসর্জন পর্বে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘাটগুলির পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে লালবাজার।