টাইগার শ্রফ গুলি-কাণ্ডে দিল্লি থেকে গ্রেফতার ৪

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের বাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় ক্রমশ জট খুলছে। কোথা থেকে এল পিস্তল? কীভাবে নিরাপত্তার নজর এড়িয়ে মুম্বইয়ে পৌঁছল অস্ত্র? কার নির্দেশে চলছিল গোটা অপারেশন? আর এই হামলার নেপথ্যে ঠিক কারা? তদন্তে এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর অধরা। তবে পুলিশের হাতে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। দিল্লি থেকে গ্রেফতার চার অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অস্ত্র সংগ্রহ, পরিবহণ এবং শুটারদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য মিলেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। উঠে এসেছে বিদেশে থাকা অনিল পণ্ডিতের নামও, যাঁর সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগ রয়েছে বলে অভিযোগ। কিন্তু এই ঘটনায় টাইগার শ্রফই কি মূল নিশানা ছিলেন? সেই রহস্যও এখনও পুরোপুরি কাটেনি। অন্যদিকে, গুলি-কাণ্ডকে ঘিরে ভুয়ো খবর ও AI-নির্মিত ভিডিও ছড়ানোয় আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে অভিনেতার টিম।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূত্র অস্ত্রের যাত্রাপথ। পুলিশের দাবি, সোনিপতের বাসিন্দা কুণাল এবং সুমিত অমৃতসর থেকে পিস্তল ও ২০ রাউন্ড গুলি সংগ্রহ করেছিলেন। এরপর সেই অস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় কুণালের বান্ধবী রাধাকে। তাঁর সঙ্গে ট্রেনে মুম্বই যান বাবিতাও। তদন্তকারীদের অভিযোগ, একটি ব্যাগের মধ্যে লুকিয়ে অস্ত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছিল মুম্বইয়ে। ১৭ অক্টোবর দাদরে পৌঁছন ওই দুই মহিলা। এরপর তাঁদের হোটেলের কাছ থেকে এক নাবালক ব্যাগটি সংগ্রহ করে এবং পরে শুটারদের হাতে পৌঁছে দেয় বলে দাবি পুলিশের। অর্থাৎ, অস্ত্র সংগ্রহ থেকে শুরু করে তা শুটারদের হাতে পৌঁছে দেওয়া- এই গোটা প্রক্রিয়ায় একাধিক ব্যক্তির ভূমিকা ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অস্ত্র পরিবহণের নিরাপত্তা-ফাঁক কীভাবে কাজে লাগানো হয়েছিল, তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

এই ঘটনায় বিদেশে থাকা অনিল পণ্ডিতের নাম সামনে এসেছে। পুলিশের দাবি, এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে তাঁর নির্দেশেই অস্ত্র সংগ্রহ ও পরিবহণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অনিল পণ্ডিতের সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ তদন্তকারীদের। কুণাল এই পুরো ব্যবস্থাপনার জন্য ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন বলে পুলিশের দাবি। তবে টাকা দেওয়ার উৎস, নির্দেশদাতাদের সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগাযোগ এবং হামলার পরিকল্পনায় কার কী ভূমিকা ছিল- সেই সব দিক এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই মামলায় দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। পরে ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁদের মুম্বই পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অস্ত্রের উৎস, পরিবহণের রুট এবং হামলাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। তবে তদন্তে কোনও নাম উঠে আসা বা পুলিশের অভিযোগই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমান নয়। গোটা ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে।

এখনও পর্যন্ত তদন্তে অস্ত্রের সম্ভাব্য উৎস, তা মুম্বইয়ে পৌঁছে দেওয়ার পদ্ধতি এবং এই কাজে অভিযুক্ত কয়েকজনের ভূমিকা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলেছে। কিন্তু এখানেই কি রহস্যের শেষ? তা বলার সময় এখনও আসেনি। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, টাইগার শ্রফকেই কি হামলাকারীরা নিশানা করেছিলেন? প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে, অভিনেতা হামলাকারীদের মূল বা প্রাথমিক লক্ষ্য নাও হয়ে থাকতে পারেন। ফলে গুলি চালানোর আসল উদ্দেশ্য কী ছিল, কার নির্দেশে হামলা হয়েছিল এবং এর পিছনে আরও কেউ রয়েছে কি না- সেই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও প্রয়োজন। পুলিশের তদন্তে অস্ত্রের যাত্রাপথের কিছুটা ছবি স্পষ্ট হলেও হামলার সম্পূর্ণ পরিকল্পনা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি। তদন্তকারীদের পরবর্তী পদক্ষেপ তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়ো খবর নিয়েও সতর্ক করেছে টাইগার শ্রফের টিম। অভিনেতার অফিসের তরফে জানানো হয়েছে, গুলি চালানোর ঘটনা নিয়ে টাইগার কোনও ভিডিও প্রকাশ করেননি, কোনও বিবৃতি দেননি এবং তাঁর নামে কোনও বার্তাও অনুমোদন করেননি। টিমের অভিযোগ, অভিনেতার নাম ব্যবহার করে AI-নির্মিত ভিডিও এবং মনগড়া দাবি ছড়ানো হচ্ছে। এই ধরনের ভুয়ো তথ্য ছড়ানো ব্যক্তি ও পেজের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। অনুরাগী ও সংবাদমাধ্যমকে অনুরোধ করা হয়েছে, কোনও তথ্য যাচাই না করে তা বিশ্বাস, শেয়ার বা প্রচার না করতে।

টাইগার শ্রফের বাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় তদন্তে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিললেও সব রহস্যের সমাধান এখনও হয়নি। অস্ত্র কোথা থেকে এল, কারা তা পৌঁছে দিল এবং বিদেশে থাকা অভিযুক্তের সঙ্গে এই ঘটনার যোগ কতটা- এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে পুলিশ। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, হামলার আসল উদ্দেশ্য কী ছিল এবং টাইগার শ্রফ আদৌ মূল নিশানা ছিলেন কি না। তদন্ত যত এগোবে, ততই স্পষ্ট হতে পারে এই গুলি-কাণ্ডের নেপথ্যের ছবি।