ফের বড়সড় সাফল্য বিষ্ণুপুর থানা পুলিশের, ১৫ মাস পর চাঞ্চল্যকর চুরির কিনারা! সেনা জওয়ানের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল ও কার্তুজ উদ্ধার, গ্রেফতার এক, অভিযুক্তকে তোলা হলো আদালতে, সেনা জওয়ানের বাড়িতে চুরির ঘটনার ১৫ মাস পর বড়সড় সাফল্য পেল বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ। চুরি যাওয়া লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করার পাশাপাশি এই ঘটনায় এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম রোহিত হাজারি। তার বাড়ি বিষ্ণুপুর থানার বেলিয়াড়া গ্রামে। তবে চুরি যাওয়া সোনার গয়না ও নগদ টাকা এখনও উদ্ধার হয়নি। সেগুলির সন্ধানে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

মিলন কর্মকার, নিজস্ব সংবাদদাতা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুর থানার গুমুট গ্রামের বাসিন্দা গঙ্গাধর পাল ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত। ২০২৫ সালে তিনি শিলিগুড়িতে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে, ছেলেমেয়ের পড়াশোনার সুবিধার জন্য স্ত্রী অন্তরা পাল নন্দী তাঁদের নিয়ে বাঁকুড়া শহরে একটি ভাড়াবাড়িতে থাকতেন। অভিযোগ, গত বছরের ৩১ জুলাই রাতে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে দুষ্কৃতীরা চুরির ছক কষে। বাড়িটি তালাবন্ধ থাকায় চিলেকোঠার অ্যাসবেস্টসের ছাদ ফুটো করে ভিতরে ঢোকে তারা। এরপর আলমারি ভেঙে একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল, ১০ রাউন্ড কার্তুজ, নগদ ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা এবং প্রায় ২০ লক্ষ টাকা মূল্যের সোনার গয়না চুরি করে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। পরদিন সকালে ঘটনার খবর পেয়ে বাঁকুড়া শহর থেকে গুমুটের বাড়িতে পৌঁছন গঙ্গাধরবাবুর স্ত্রী অন্তরা পাল নন্দী। পরের দিন বিষ্ণুপুর থানায় চুরির অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তবে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত চললেও অভিযুক্তদের নাগাল পাওয়া যাচ্ছিল না।
অবশেষে বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বেলিয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা রোহিত হাজারির বাড়িতে হানা দেয় এই ঘটনার পঞ্চম তদন্তকারী অফিসার সুরেশ সাউয়ের নেতৃত্বে একদল পুলিশ। তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মেলে বলে জানা গিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত চুরির কথা স্বীকার করে এবং বাড়ির পিছনে মাটির গর্তে আগ্নেয়াস্ত্রটি পুঁতে রাখার কথা জানায়। এরপর অভিযুক্তকে সঙ্গে নিয়ে বেলিয়াড়া গ্রামে যায় তদন্তকারী অফিসার সুরেশ সাউ ও তার দল। সেখানেই মাটির তলা থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও আট রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। যদিও অভিযোগ অনুযায়ী চুরি যাওয়া ১০ রাউন্ড কার্তুজের মধ্যে এখনও পর্যন্ত আট রাউন্ড উদ্ধার হয়েছে। বাকি কার্তুজের পাশাপাশি নগদ টাকা ও সোনার গয়নার হদিশ পেতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
এই চুরির ঘটনায় রোহিতের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। দীর্ঘ ১৫ মাস পর সেনা জওয়ানের বাড়িতে চুরির ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্ত গ্রেফতার হওয়ায় তদন্তে নতুন গতি এসেছে। এখন বাকি চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের সন্ধান পাওয়াই পুলিশের কাছে প্রধান লক্ষ্য।