শুক্রবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের (CEC) বিরুদ্ধে বিরোধীদের প্রস্তাবিত ‘জনতার ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচি নিয়ে কংগ্রেসকে নিশানা করলেন বিজেপি বিধায়ক রামেশ্বর শর্মা। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক নাটক করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বিরোধীরা।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
বিজেপি বিধায়ক বলেন, কংগ্রেসের উচিত গণতন্ত্রকে নিয়ে ছেলেখেলা বন্ধ করা। তাঁর কথায়, ডঃ বি আর আম্বেদকরের তৈরি সংবিধানে দেশের জন্য একটি নির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ নির্বাচনী ব্যবস্থা রয়েছে। সেই ব্যবস্থার মাধ্যমেই মানুষ নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সংসদে দেশের মানুষের হয়ে কথা বলেন এবং দেশের ভবিষ্যৎ ও জনকল্যাণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করেন।
কংগ্রেস ও তাদের জোটসঙ্গীদের আক্রমণ করে রামেশ্বর শর্মা আরও বলেন, বিরোধীরা বুঝে গিয়েছে যে আগামী দিনে তাদের পক্ষে আর ক্ষমতায় ফেরা সম্ভব নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী কিংবা রেলমন্ত্রীর মতো পদে বসার সুযোগও তারা আর পাবে না। এমনকী লোকসভার স্পিকার বা উপরাষ্ট্রপতি হওয়ার সুযোগও মিলবে না। সেই কারণেই তারা রাজনৈতিক নাটক করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিজেপি বিধায়কের দাবি, বিরোধীদের তোলা বিভিন্ন ইস্যুতে কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। নাটক করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে দেশের মানুষ সবকিছুই বুঝতে পারছেন। তাঁর আরও বক্তব্য, কংগ্রেস ও তাদের সহযোগীরা প্রায় ৫০-৫৫ বছর দেশ শাসন করেছে। সেই সময় দেশের কী অবস্থা ছিল এবং কী ধরনের সমস্যার মধ্যে দেশকে রেখে গিয়েছিল, তা মানুষ জানেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ নিজেদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করেছেন। আম্বেদকরের সংবিধানের নিয়ম মেনেই নির্বাচিত সংসদ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে।
উল্লেখ্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে শুক্রবার একটি ‘জনতার ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচির আয়োজন করার কথা ছিল বিরোধী INDIA জোটের। নয়াদিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবন, ১০ রাজাজি মার্গে বিকেল সাড়ে ৩টেয় এই কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিল। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR নিয়ে বিরোধীদের প্রতিবাদের মধ্যেই এই কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পাশাপাশি, ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে INDIA জোটের একটি বড় সমাবেশেরও ঘোষণা করা হয়েছিল।
তবে শুক্রবার বৃষ্টির কারণে কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়ার কথা জানান লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। তিনি জানান, বিরোধী জোটের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রবীণ নেতাদের বৃষ্টির মধ্যে বসে থাকতে অসুবিধা হতে পারে, সেই কথা মাথায় রেখেই কর্মসূচি শনিবার একই সময়ে করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল বলেন, সবার সম্মতিতেই শুক্রবারের কর্মসূচি একদিন পিছিয়ে শনিবার করা হয়েছে।