‘ইতিহাস তৈরি হয়েছে’, ইন্ডিয়া জোটের সভা নিয়ে দাবি কংগ্রেস নেত্রীর

সোমবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সাম্প্রতিক জনসভাকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করলেন উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি আরাধনা মিশ্র-মোনা। তাঁর দাবি, এই সভায় মানুষের উপস্থিতি ছিল নজিরবিহীন। সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ এই কর্মসূচিকে এক ঐতিহাসিক রূপ দিয়েছে। সভায় বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উৎসাহের কথা তুলে ধরেন আরাধনা মিশ্র-মোনা। তাঁর কথায়, এই সভা শুধুমাত্র রাজনৈতিক জমায়েত ছিল না, বরং একটি বড় গণআন্দোলনের সূচনা।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

আরাধনা মিশ্র-মোনা ANI-কে বলেন, “গতকাল রামলীলা ময়দানে ইতিহাস তৈরি হয়েছে। মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এটি শুধু কোনও জনসভা ছিল না, বরং একটি বড় গণআন্দোলনের শুরু। উত্তরপ্রদেশের দলীয় কর্মী, সাধারণ মানুষ এবং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষের উৎসাহ ছিল অভূতপূর্ব।” তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেসের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না, এমন অনেক মানুষও এই সভায় যোগ দিয়েছেন। রাহুল গান্ধির পাশে দাঁড়াতে এবং তাঁকে শক্তিশালী করতে তাঁরা এগিয়ে এসেছেন।

প্রসঙ্গত, রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ একটি বড় জনসভার আয়োজন করে। ভোটার তালিকায় অনিয়ম এবং স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভায় উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব-সহ বিরোধী দলের একাধিক শীর্ষ নেতা।

এদিকে, সোমবার বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। তাঁর দাবি, দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের প্রতিবাদ সভার পর বিজেপির প্রচারের আসল চেহারা সামনে চলে এসেছে। তাঁর আরও দাবি, এই সভার ফলে দিল্লির স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ব্যবসাও বেড়েছে। সমাজমাধ্যম X-এ একটি পোস্ট করে জয়রাম রমেশ অভিযোগ করেন, সভাকে বদনাম করতে বিজেপি ব্যবসায়ীদের ক্ষতির ভয় দেখিয়েছিল। এমনকী, দিল্লির বাজার বন্ধ হয়ে যাবে বলেও প্রচার করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে মানুষকে দিল্লিতে আসতে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।

জয়রাম রমেশের কথায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ যখন দিল্লিতে আসবেন, তখন তাঁরা বাজারে কেনাকাটাও করবেন, এটাই স্বাভাবিক। এতে দিল্লির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সব ব্যবসায়ীরই লাভ হওয়ার কথা। তাঁর অভিযোগ, ‘ভোট চুরি’ সংক্রান্ত বিষয় থেকে মানুষের নজর ঘোরাতে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে আড়াল করতেই বিজেপি এই মিথ্যা প্রচার চালিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে তার উল্টো। জয়রাম রমেশ আরও দাবি করেন, রাহুল গান্ধির আবেদনে সাড়া দিয়ে সভায় আসা মানুষ দিল্লির বিভিন্ন বাজারে কেনাকাটা করেছেন। পুরনো দিল্লির পাইকারি বাজারগুলিও খোলা ছিল এবং সেখানে ভালো ব্যবসা হয়েছে। ছোট দোকানদার ও রাস্তার হকারদের কাছ থেকেও প্রচুর জিনিসপত্র কিনেছেন মানুষ। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেই বিজেপির প্রচারের অসত্যতা সামনে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।

দিল্লির ব্যবসায়ী, দোকানদার এবং সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে জয়রাম বলেন, তাঁরা গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসাকেও সমর্থন করেছেন। বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ভয় দেখিয়ে বা মিথ্যা প্রচার করে গণতন্ত্রের কণ্ঠস্বরকে থামানো যায় না। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং বিজেপিকে নিশানা করে তাঁর আরও দাবি, গত ১২ বছর ধরে দেশের মানুষ বিজেপির নানা কৌশল দেখছেন। এখন আর এসব কৌশলে তাঁরা ভুলছেন না।

জয়রাম রমেশের কথায়, মানুষ ভোট দেওয়ার অধিকার রক্ষা করবেন, ব্যবসা চালিয়ে যাবেন এবং সরকারের কাছে জবাবদিহিও চাইবেন। তবে কংগ্রেস নেতার এই দাবির সঙ্গে একমত নয় দিল্লির চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (CTI)। রবিবার সংগঠনের সভাপতি ব্রিজেশ গোয়েল দাবি করেন, ইন্ডিয়া জোটের জনসভার কারণে দিল্লির ব্যবসায়ীদের প্রায় ১০ হাজার থেকে ১১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তাঁর দাবি, সভাস্থলের আশপাশের প্রায় ২০ থেকে ২৫টি বড় বাজারে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই বাজারগুলিতে মোট প্রায় ৩ লক্ষ দোকান রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় আড়াই লক্ষ দোকান বন্ধ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

এর আগে জনসভার আগে রাহুল গান্ধি অভিযোগ করেছিলেন, দিল্লির কনট প্লেসে বিজেপি জোর করে দোকান বন্ধ করিয়ে দিয়েছে। এর ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। X-এ একটি পোস্ট করে রাহুল গান্ধি দাবি করেন, জনসভায় যোগ দিতে আসা মানুষকে স্থানীয় বাজার থেকে কেনাকাটা করার আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু দিল্লিতে পৌঁছে তাঁরা দেখেন, বহু দোকানপাট বন্ধ।