বিতর্কে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন!

ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও পানামার মতো আন্তর্জাতিক দলকে ভারতে এনে ফুটবলপ্রেমীদের সামনে বড় মঞ্চ তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছিল সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (AIFF)। কিন্তু সেই প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের খরচ ঘিরেই এবার বড় আর্থিক বিতর্কে জড়াল ফেডারেশন।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তত ৮০-৮৫ কোটি টাকার দেনার বোঝা রয়েছে AIFF-এর উপর। সেই দেনা মেটাতে ফেডারেশনের ফিক্সড ডিপোজিট (FD) ভাঙার প্রস্তাব দেন সভাপতি কল্যাণ চৌবে। কিন্তু সদস্যদের প্রবল আপত্তিতে রবিবারের বিশেষ সাধারণ সভায় সেই প্রস্তাব কার্যত আটকে যায়।

কেন আপত্তি সদস্যদের?

সদস্যদের বক্তব্য, অত্যন্ত জরুরি পরিস্থিতি না হলে ফেডারেশনের সঞ্চিত অর্থে হাত দেওয়া উচিত নয়। সহ-সভাপতি এনএ হরীশও জানান, এফডি না ভাঙার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছিল এক্সিকিউটিভ কমিটি।

এআইএফএফ সূত্রের খবর, পরে স্পনসরের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে এফডিতে টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবও দেন কল্যাণ চৌবে। কিন্তু তাতেও সদস্যদের সম্মতি মেলেনি।

প্রাক্তন সভাপতি প্রফুল্ল প্যাটেলের প্রশ্ন

এই আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন সভাপতি প্রফুল্ল প্যাটেল। তাঁর বক্তব্য, আগে বলা হয়েছিল আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের খরচ স্পনসরের কাছ থেকেই জোগাড় করা হবে। তাহলে এখন ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙার প্রয়োজন পড়ছে কেন?

এদিকে, দেনার সঠিক পরিমাণ এবং পাওনাদারদের টাকা মেটানোর পরিকল্পনা নিয়েও সদস্যরা বিস্তারিত হিসাব জানতে চেয়েছেন।

ঘরোয়া ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন

সদস্যদের একাংশের আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের খরচের চাপ যদি ফেডারেশনের আর্থিক অবস্থাকে দুর্বল করে দেয়, তাহলে সন্তোষ ট্রফির মতো ঘরোয়া প্রতিযোগিতা এবং ফুটবলের উন্নয়নমূলক কাজ কীভাবে চলবে?
আপাতত বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে একটি ছোট কমিটি গঠনের প্রস্তাব এসেছে। পরে বিষয়টি এক্সিকিউটিভ কমিটির কাছে পাঠানো হতে পারে।

? আপনার কী মত? আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের পাশাপাশি AIFF-এর কি ঘরোয়া ফুটবল ও পরিকাঠামোর উন্নয়নে আর্থিক স্থিতিশীলতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত?