৫ দিনের ব্যাঙ্ক ধর্মঘট! এই দিন গুলিতে পাবেন না পরিষেবা।জরুরি লেনদেন এখনই সেরে নিন।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্কঃ আপনার কি ব্যাঙ্কে গিয়ে কোনও গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার আছে? চেক জমা দিতে হবে? বড় অঙ্কের টাকা জমা বা তোলা? KYC-র কাজ? কিংবা কোনও নথিপত্র নিয়ে শাখায় যেতে হবে? তাহলে সাবধান! সামনে এমন একটা সময় আসছে, যখন টানা কয়েকদিন ব্যাঙ্কের শাখাভিত্তিক পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে। কারণ, ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে তিন দিনের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে United Forum of Bank Unions বা UFBU। আর তার ঠিক আগেই ২৬ সেপ্টেম্বর চতুর্থ শনিবার এবং ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার। ফলে ২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যত টানা পাঁচ দিন শাখায় গিয়ে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা পেতে সমস্যা হতে পারে।
তবে একটা বিষয় শুরুতেই পরিষ্কার করে দেওয়া দরকার- এর অর্থ এই নয় যে পাঁচ দিন দেশের সমস্ত ব্যাঙ্কিং পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। UPI, মোবাইল ব্যাঙ্কিং, ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং এবং ATM-এর মতো ডিজিটাল ও self-service পরিষেবা চালু থাকার কথা। SBI-সহ একাধিক ব্যাঙ্কও গ্রাহকদের আগেভাগে প্রয়োজনীয় branch-dependent কাজ সেরে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, কেন এই ধর্মঘট? ব্যাঙ্ক কর্মী সংগঠনগুলির প্রধান দাবি- Five-Day Banking Week। অর্থাৎ, সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্কের কাজ এবং শনিবার ও রবিবার ছুটি।
UFBU-র দাবি, পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহের বিষয়টি ২০২৪ সালের wage revision settlement-এ সম্মত হয়েছিল। কিন্তু এখনও তা বাস্তবায়িত হয়নি। অন্যদিকে, সরকারের বক্তব্য- বিষয়টি এখনও বিবেচনাধীন এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মতামত নেওয়া প্রয়োজন। এই ইস্যুতেই তৈরি হয়েছে মূল সংঘাত। এর আগে UFBU-র পক্ষ থেকে আরও একটি বড় দাবি ছিল- Performance Linked Incentive বা PLI scheme প্রত্যাহার। এই বিষয়ে সরকার ইতিমধ্যেই PLI scheme-কে abeyance-এ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ এই দাবিটি আপাতত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু পাঁচ দিনের ব্যাঙ্কিং নিয়ে এখনও সমাধান হয়নি। তাই আন্দোলন থেকে সরে আসেনি ইউনিয়নগুলি। শুধু তাই নয়, পেনশন ও welfare সংক্রান্ত আরও কিছু দাবিও রয়েছে। তার মধ্যে pensioners-এর Dearness Allowance-এর uniform formula, pension revision এবং নির্দিষ্ট কিছু NPS subscriber-কে Old Pension Scheme-এ ফেরার সুযোগ দেওয়ার মতো বিষয় রয়েছে। তবে ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের ধর্মঘটের প্রধান unresolved issue হল পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ।
এখন প্রশ্ন- সরকার কি শেষ মুহূর্তে ধর্মঘট আটকাতে পারবে? ২২ সেপ্টেম্বর Deputy Chief Labour Commissioner-এর সামনে সরকার, Indian Banks’ Association, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এবং ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের মধ্যে conciliation meeting হয়। কিন্তু বৈঠক থেকে কোনও চূড়ান্ত সমাধান বেরোয়নি। সরকার এবং ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ ধর্মঘট পিছিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছে। কিন্তু UFBU জানিয়েছে, পাঁচ দিনের ব্যাঙ্কিং চালুর বিষয়ে concrete এবং positive progress না হলে ২৮, ২৯ এবং ৩০ সেপ্টেম্বরের ধর্মঘট চলবে। আর এখানেই গ্রাহকদের জন্য তৈরি হচ্ছে সবচেয়ে বড় সমস্যা। কারণ ৩০ সেপ্টেম্বর ব্যাঙ্কগুলির half-yearly closing-এর গুরুত্বপূর্ণ তারিখ। অর্থাৎ মাসের শেষের এই সময়ে বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক কাজের চাপ এমনিতেই থাকে। তার উপর তিন দিনের ধর্মঘট হলে branch-based পরিষেবায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাহলে গ্রাহকরা কী করবেন? প্রথমত, শাখায় গিয়ে যে কাজগুলি করতেই হবে, সেগুলি ২৮ সেপ্টেম্বরের আগেই সেরে ফেলুন। যেমন-
বড় অঙ্কের cash deposit বা withdrawal,
physical KYC update,
চেক সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ,
নথি জমা দেওয়া,
অথবা এমন কোনও কাজ যার জন্য ব্যাঙ্ক কর্মীর সরাসরি সাহায্য প্রয়োজন
দ্বিতীয়ত, প্রয়োজন হলে ATM বা Cash Deposit/Withdrawal Machine ব্যবহার করুন। SBI-সহ একাধিক ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের digital banking, ATM, Business Correspondent বা Customer Service Point-এর মতো বিকল্প পরিষেবা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। তৃতীয়ত, UPI, mobile banking এবং internet banking-এর মতো পরিষেবা ব্যবহার করুন। তবে মনে রাখতে হবে, ডিজিটাল পরিষেবা চালু থাকলেও এমন কিছু কাজ রয়েছে যেগুলির জন্য শাখা বা ব্যাঙ্ককর্মীর সরাসরি সাহায্য প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে আগে থেকে কাজ সেরে নেওয়াই নিরাপদ।
আর শুধু সেপ্টেম্বরের ধর্মঘটেই বিষয়টি শেষ হচ্ছে না। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের প্রস্তাবও রয়েছে, যদি পাঁচ দিনের ব্যাঙ্কিং নিয়ে সমাধান না হয়। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের এই তিন দিনের ধর্মঘটের পরেও পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হতে পারে। তাই এখন মূল নজর- শেষ মুহূর্তে সরকার এবং ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলির মধ্যে কোনও সমঝোতা হয় কি না। একদিকে কর্মীদের দাবি- পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ এবং দীর্ঘদিনের কিছু welfare ও pension-related বিষয় দ্রুত মেটানো। অন্যদিকে সরকারের উদ্বেগ- ধর্মঘটের জেরে সাধারণ মানুষ, ব্যবসা এবং সরকারি লেনদেনে যাতে বড় ধরনের পরিষেবা ব্যাহত না হয়।
ফলে আগামী কয়েকদিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ধর্মঘটের ডাক আপাতত বহাল। ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বরের সাপ্তাহিক ছুটির কারণে শাখাভিত্তিক পরিষেবায় টানা পাঁচ দিনের প্রভাব পড়তে পারে। তাই আপনার ব্যাঙ্কিংয়ের কোনও জরুরি কাজ থাকলে- শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে আগেই সেরে রাখুন। আর সাধারণ লেনদেনের জন্য ATM, UPI, mobile banking এবং internet banking-এর মতো বিকল্প পরিষেবা প্রস্তুত রাখুন। এখন দেখার, পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ নিয়ে সরকার ও ব্যাঙ্ক ইউনিয়নের এই টানাপোড়েন আলোচনার টেবিলে মেটে, নাকি ২৮ সেপ্টেম্বর থেকেই দেশজুড়ে শুরু হয় তিন দিনের ব্যাঙ্ক ধর্মঘট। তবে গ্রাহকদের প্রয়োজন ও সুবিধার কথা মাথায় রেখে এই রবিবার অর্থাৎ ২৭ সেপ্টেম্বর খোলা থাকছে ব্যাঙ্ক।