উৎসবের মরশুমে চিনি মজুত নিয়ন্ত্রণে নতুন নিয়ম

কমল খুচরো ও মিলগেট দাম নির্ধারণ করল কেন্দ্র। নতুন চিনি মরশুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎসবের মরশুমে সাধারণ মানুষের জন্য পর্যাপ্ত চিনি সরবরাহ ও যুক্তিসঙ্গত দাম নিশ্চিত করতে মজুত সংক্রান্ত নিয়ম আরও কড়া করল কেন্দ্র।

সুস্মিত মজুমদার, নিজস্ব সংবাদদাতা

আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চিনি ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ ১৫ দিনের বেশি চিনি মজুত রাখা যাবে না। একই সঙ্গে কোনও ব্যবসায়ী দেশের কোনও প্রান্তে একসঙ্গে ১,০০০ কুইন্টালের বেশি চিনি মজুত রাখতে পারবেন না।

তবে কলকাতা ও তার সম্প্রসারিত মহানগর এলাকা এবং অসমের ক্ষেত্রে মজুতের সর্বোচ্চ সীমা ২,০০০ কুইন্টাল করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটক থেকে কলকাতায় চিনি আসে এবং এখান থেকে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। ভৌগোলিক অবস্থান, পরিবহণ ব্যবস্থা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনা করেই অসম ও কলকাতার ক্ষেত্রে বেশি মজুতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্র জানিয়েছে।

কেন্দ্রের বক্তব্য, নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য হল সরবরাহ শৃঙ্খলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে চিনি জমিয়ে রাখা বন্ধ করা, মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট রুখে দেওয়া এবং মিল থেকে ডিলার হয়ে দ্রুত চিনি পৌঁছে দেওয়া। এর ফলে উৎসবের মরশুমে বাজারে চিনির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি ভোক্তাদের জন্য দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হবে।

১৫ শতাংশ কমেছে খুচরো দাম

কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের সর্বোচ্চ দামের তুলনায় বর্তমানে খুচরো বাজারে চিনির গড় দাম প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে। আগামী দিনে মিলগেট বা এক্স-মিল দামের পতনের সুফল সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছলে খুচরো দাম আরও কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, এক্স-মিল চিনির দাম প্রায় ২৮ শতাংশ কমেছে এবং গত তিন সপ্তাহ ধরে তা মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।

কেন্দ্র চিনি কল, ডিলার, পাইকার ও অন্যান্য বাজার অংশগ্রহণকারীদের সরবরাহ ব্যবস্থায় চিনির অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে। পাইকার ও খুচরো বিক্রেতাদেরও এক্স-মিল দামে উল্লেখযোগ্য পতনের সুফল দ্রুত ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে, বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষি-জলবায়ুগত পরিস্থিতি অনুযায়ী চিনি কলগুলিকে ইতিমধ্যেই আখ মাড়াইয়ের কাজ শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এল নিনোর প্রভাবে দেশের কয়েকটি চিনি উৎপাদনকারী অঞ্চলে অসম ও ঘাটতি বৃষ্টির কারণে আখ চাষে যে প্রভাব পড়তে পারে, তার উপর নজর রাখছে কেন্দ্র। পরিস্থিতি অনুযায়ী দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা, ভোক্তাদের স্বার্থ এবং আখচাষিদের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রাজ্য সরকারগুলিকেও সংশ্লিষ্ট এলাকার মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বিবেচনা করে চিনি কলগুলির মাড়াই কার্যক্রমের বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

কেন্দ্রের বক্তব্য, দেশের চিনি নীতির দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হল আখচাষি ও ভোক্তা। আখচাষিদের ন্যায্য আয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোক্তাদের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি থেকে সুরক্ষা এবং সারা দেশে পর্যাপ্ত চিনি সরবরাহ নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।