এশিয়ান গেমসে ৪৪ বছর পর সোনা জিতল ভারতের মহিলা হকি দল। শুক্রবার ফাইনালে চিনকে ১-০ গোলে হারাল ভারত। একমাত্র গোল লালরেমসিয়ামির। এর আগে ১৯৮২ সালে প্রথম এশিয়ান গেমসে মহিলা হকিতে সোনা জিতেছিল ভারত। এত দীর্ঘ সময় পেরিয়ে ফের সোনা জিতল ভারতের মহিলা হকি দল। চলতি এশিয়ান গেমসে ১৬টি সোনা হল ভারতের। মহিলা হকিতে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সের টিকিটও নিশ্চিত হয়ে গেল।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
ম্যাচ শুরু হয় ৪.৩০টে থেকে। যদিও এ দিন ভারতীয় সময় দুপুর ৩.৩০টে থেকে খেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ট্র্যাফিক জ্যামে আটকে যায় দুই দলের বাস। ফলে স্টেডিয়ামে পৌঁছতে দেরি হয় দুই দলের। ম্যাচ শুরুর আগে সম্মান জানানো হয় লালরেমসিয়ামিকে। এটা তাঁর ২০০তম ম্যটা। সেই ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখলেন গোল করে। তাঁর একমাত্র গোলেই ভারত এশিয়াডে সোনা জিতল দীর্ঘ দিন পর। গত অলিম্পিক্সে চিন রুপো পেয়েছিল রুপো।চিন কিন্তু প্রথম থেকেই মহিলাদের হকিতে তারা যথেষ্ট শক্তিশালী দল। এ দিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল তারা।
শুরু থেকেই ভারতীয় ডি-বক্সে বারবার হানা দিচ্ছিল চিন। ভারতকে ক্রমাগত চাপে রাখলেও ম্যাচের প্রথম গোলটি আসে ভারতের দিক থেকেই। চিনের সার্কেলের মধ্যে বল পেয়ে সুযোগ কাজে লাগান লালরেমসিয়ামি। তাঁর নেওয়া শট জালে জড়িয়ে এগিয়ে যায় ভারত। কিছুক্ষণ পর পেনাল্টি কর্নার পেলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি ভারত।
দ্বিতীয় কোয়ার্টারে চিন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। একের পর এক আক্রমণ সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে ভারতের রক্ষণ। গোললাইন থেকে গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে এগিয়ে রাখেন নবনীত কৌর। এরপর ভারতের ডি-বক্সে ফাউল হওয়ায় পেনাল্টি স্ট্রোক পায় চিন। কিন্তু চিনের ঝাং ইংয়ের শট দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে আটকে দেন ভারতীয় গোলরক্ষক সবিতা পুনিয়া।
তৃতীয় কোয়ার্টারের শুরুতেও পেনাল্টি স্ট্রোকের সুযোগ পেয়েছিল চিন। নবনীতের পায়ে বল লাগার অভিযোগে সেই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল। তবে রেফারেলের পর সিদ্ধান্ত বদলে যায়। পরে পেনাল্টি কর্নার থেকেও চিনের আক্রমণ সামলে নেন সালিমা টেটে ও ভারতের রক্ষণ।
সময় যত গড়িয়েছে, ততই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে চিন। ভারতকে কার্যত নিজেদের অর্ধেই আটকে রেখেছিল তারা। আক্রমণে ওঠার সুযোগ খুব একটা পায়নি ভারতীয় দল। কিন্তু দুর্দান্ত রক্ষণে চিনের একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করে যায় ভারত। শেষদিকে গোলের মরিয়া চেষ্টায় চিন গোলরক্ষককে তুলে নিয়ে অতিরিক্ত এক জন ফিল্ড খেলোয়াড় নামায়। তাতেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মেলেনি।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই স্বস্তি নামে ভারতীয় শিবিরে। চিনের প্রবল চাপ সামলে জয় নিশ্চিত করে ভারত। এই জয়ের ফলে মহিলা হকিতে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সের টিকিটও নিশ্চিত হয়ে গেল।