রহস্যজনক ঘুমে আচ্ছন্ন শহর, বিরল রোগে হারাচ্ছে স্মৃতি….

ওয়েব ডেস্ক: ঘুম এমন এক শারীরিক বিশ্রাম যা প্রতিটি মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে সারাদিনে অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘন্টা নিস্তব্ধ ঘুমের প্রয়োজন আছে।

কিন্তু কাজের চাপ, জীবনযাত্রার পরিবর্তন ঘুম শব্দটা কেড়ে নিয়েছে মানুষের জীবন থেকে।

বহু মানুষ এখন ইনসোমেনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ছুটে যান ডাক্তারের কাছে, ওষুধের আশ্রয় নিয়ে ঘুমনোর চেষ্টা করেন।

কিন্তু শারিরীক চাহিদার থেকে বেশি ঘুম আবার চিন্তার কারণ।

কাজাকাস্তানে এমন এক শহর আছে যেখানে মানুষ রহস্যজনক ঘুমের দেশে বিরাজ করেন। রাতের বিছানায় ঘুম নয় বরং এই শহরে মানুষকে দিনের ব্যস্ত সময় রাস্তার ধারেও হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়তে দেখবেন। শহরের নাম কালচি বা কালাচেভ। দক্ষিণে কাজাকাস্তানের আকমলিনস্ক জেলায় অবস্থিত। আকমলিনস্ক নামটি এসেছে আকমলা শব্দ থেকে। কাজাখ ভাষায় এর অর্থ সাদা কবর। আকমলিনস্কের কালাচি গ্রামবাসীরা এ অদ্ভুত ঘুম-রোগে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৬য় বছর আগে থেকে।

এই ঘুম মোটাই স্বাভাবিক নয়, ২০১৩ সালে বসন্তের শুরু থেকে হঠাৎ এই রোগে আক্রান্ত হন কালচি শহরের বাসিন্দারা। কথা বলতে বলতে, রান্না করতে করতে, হাঁটতে, চলতে, এমনকি অফিসে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং করতে করতে হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়েন এই শহরের বাসিন্দারা।

আরও পড়ুন: OMG! খাবার থালা থেকে উঠে পালাল মাংস, দেখুন ভিডিও

আর এভাবে ঘুমিয়ে পড়ার পর জেগে উঠলে তাদের অনেক স্মৃতি থাকছে না। এমনকি জেগে ওঠার পর বাস্তবে অস্তিত্ব নেই এমন জিনিসও দেখতে পান এই শহরের বাসিন্দারা। গোটা শহর জুড়ে এই রোগের কারণ এখনও পর্যন্ত পরিস্কার নয় চিকিৎসা বিজ্ঞানের কাছেও।

প্রতিবেশী জেলাগুলি এই শহরের মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও ভেবতে শুরু করেছেন। গোটা শহরে শয় শয় মানুষ সারাদিনই হ্যাঙ্গ ওভারের মধ্যে দিন কাটান, ফলে কাজে গতি নেই। ঘুমের ফলে শহরে গাড়ি চালাতে পারছেন না মানুষ। ইতিমধ্যে ভূ-তত্ত্ববিদরা ওই শহরের মাটি, বাতাশ এবং জল পরীক্ষা করেছেন , পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে ঘুমে আক্রান্ত রোগীর রক্ত, কিন্তু কোথাও কোন অস্বাভাবিকতা নজরে আসেনি তাদের।

রুশ সীমান্তের কাছে একটি ইউরেনিয়াম গুহায় রেডন গ্যাসের বাতাসে মিশে যাওয়াকে এই রোগের কারণ হিসাবে মনে করেছেন ভূ-বিজ্ঞানীরা, তবে সেই তথ্যও ঘুমের কারণ খুঁজতে ব্যার্থ করেছে বিজ্ঞানীদের। সব মিলিয়ে ৬ বছর ধরে কালচি শহরের মানুষের এই বিরল রোগের না আছে কোন চিকিৎসা না কোন কারণ।