মুর্শিদাবাদ: অনুচ্ছেদ ৩৭০ বিলোপের পর থেকে ক্ষোভে ফুঁসছে পাকিস্তান। কাশ্মীরের পরিস্থিতি কোনভাবেই শান্ত হতে দেবে না তারা, এমনটাই প্রায় সংকল্প করে ফেলেছে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলি। পাক মন্ত্রীদের ভাষণে ভারতের প্রতি অগ্ন্যুদগারের ফলে বার বার যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে চলেছে পাক সেনাবাহিনীও। কাশ্মীর ভূখণ্ড নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চলতে থাকা দ্বন্দ্বের শিকার এবার হতে চলেছেন সাধারণ মানুষ। মঙ্গলবার কুলগামের কাটরাসু গ্রামে মুর্শিদাবাদের ৬ জন বাঙালি শ্রমিককে নির্বিচারে গুলি করে খুন করল জঙ্গিরা। দক্ষিণ কাশ্মীরের ওই অঞ্চলটি হিজিবুল জঙ্গিঘাঁটি বলেই পরিচিত। অঞ্চলে কাজের জন্যই একটি ভাড়া বাড়িতে থাকত ওই শ্রমিকরা। বাড়ি থেকে বের করে এনে ৬ জন শ্রমিককে নির্বিচারে গুলি করে জঙ্গিরা। ঘটনার খবর পৌঁছতেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে রাজ্য সরকার।

ট্যুইট করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘কাশ্মীরে যেভাবে নিরাপরাধ শ্রমিকদের গুলি করে মারা হয়েছে তাতে আমি স্তম্ভিত। নিহতরা সবাই মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা। কোনও রকম সান্তনা নিহতদের পরিবারের শোক কম করতে পারবে না। নিহতদের পরিবারগুলিকে সবরকম সাহায্য করা হবে।’
We are shocked and deeply saddened at the brutal killings in Kashmir. Five workers from Murshidabad lost their lives. Words will not take away the grief of the families of the deceased. All help will be extended to the families in this tragic situation
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) October 29, 2019
মৃতদের পরিবারের জন্য ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর।মঙ্গলবারই ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন সদস্য এসেছিলেন কাশ্মীরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার জন্য। কাশ্মীরের পরিস্থিতি শান্ত এমনটাই বার বার জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ভারতের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন তারা।
জঙ্গিদের গুলিতে কাশ্মীরে মৃত ৫ বাঙালি শ্রমিক, মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে হেরে গেল আরও ১
অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর ও সাগরদিঘি পৌঁছে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে মৃতদের পরিবারের হাতে দেহ তুলে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন। ঘটনাটি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিও লিখেছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। এমনকি যারা ওখানে এখনও কাজ করছে তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কাশ্মীরীদের থেকেও এখন জঙ্গিদের নিশানায় কাশ্মীরের বাইরে থেকে আসা লোকজন। গতকালও অনন্তনাগে একজন ট্রাক ড্রাইভারকে গুলি করে মেরেছে জঙ্গিরা। সেই সঙ্গে সোপোরে একটি বাস স্ট্যান্ড লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছুঁড়েছে। সীমান্ত দিয়ে আরও জঙ্গি কাশ্মীরে অনুপ্রবেশের জন্য গোলাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ভারতীয় সেনাও তৎপরতার সঙ্গে মোকাবিলা করছে পরিস্থিতি।