শিক্ষককে বেধড়ক মার!

নবম শ্রেণীর ছাত্রীকে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে বিদ্যালয়ে ঢুকে শিক্ষককে বেধড়ক মারধর এবং ডিম ছুড়লো ক্ষুব্ধ জনতা, আক্রান্ত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষক।

বিশ্বজিৎ দেবনাথ, নিজস্ব সংবাদদাতা : নবম শ্রেণীর ছাত্রীকে মানসিক অত্যাচার এবং নির্যাতনের অভিযোগ তুলে স্কুলের ভিতরে ঢুকেই এক শিক্ষককে মারধর এবং ডিম ছুড়ে মারল এলাকাবাসী এবং অভিযোগকারী পরিবার। ঘটনাটি ঘটে নদীয়ার শান্তিপুর থানার অন্তর্গত বড়জিয়াকুর পূর্ণচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে। জানা যায় স্কুলের একটি প্রকল্পের বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে আবেদনপত্র জমা নেওয়ার কাজ চলছিল। এবং সেই দায়িত্ব ছিল ওই স্কুলের শিক্ষক আশীষ বিশ্বাসের কাছে। নবম শ্রেণীর এক ছাত্রী অন্য এক শিক্ষকের কাছে ওই আবেদন পত্রটি জমা দিয়ে যায়। ওই শিক্ষকের তরফে পরবর্তীকালে ওই আবেদন পত্রটি আশীষ বিশ্বাসের কাছে গিয়ে পৌঁছায়। কিন্তু আসিস বিশ্বাস দেখেন ওই আবেদনপত্রে যে সমস্ত নথি প্রয়োজন সেই সমস্ত নথি নেই। সেই কারণেই নবম শ্রেণীর ও ছাত্রীকে না পেলে অবশেষে তার এক সহপাঠীর কাছে আবেদন পত্রটি ফেরত দিয়ে দেয়। অভিযোগ গত ৩০ তারিখে ওই ছাত্রীকে ক্লাস রুমের মধ্যে ঢুকেই বকাবকি করে এবং মানসিক অত্যাচার করে ওই শিক্ষক। মূলত ওই অভিযোগ তুলে আজ নবম শ্রেণীর ছাত্রীর পরিবার এবং তার এলাকার লোকজন স্কুলের মধ্যে ঢুকে পড়ে। আচমকা স্কুলে ঢুকে পড়ে শিক্ষককে দেখে ডিম চড়া হয় এবং ব্যাপক মারধর করা হয়। খবর পেয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শান্তিপুর থানার পুলিশ। পুলিশ আহত অবস্থায় ওই শিক্ষক আসিস বিশ্বাসকে উদ্ধার করে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করায়।
এ বিষয়ে শিক্ষক আশীষ বিশ্বাস বলেন, আমি শুধুমাত্র একজন শিক্ষক কিংবা গার্জেন হিসাবে ওই ছাত্রীকে একটু বকাবকি করেছিলাম। যেহেতু আবেদনপত্রের সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো নথি ছিল না। সেই কারণে একটু বকাবকি করেছিলাম। পরবর্তীকালে আচমকা ওরা বিদ্যালয়ে আসে এবং আমাকে মারধর শুরু করে। তবুও আমি এই মর্মে ওদের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়েছিলাম পায়ে পর্যন্ত ধরেছিলাম কিন্তু ওরা কিছু শোনেনি।
অন্যদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অগ্রভো ভৌমিক বলেন, আমাকে এর আগে কোন ছাত্রী এই ধরনের অভিযোগ জানায়নি। তবে আচমকা এলাকার বহু পুরুষ ও মহিলারা স্কুলে ঢুকে পড়ে এবং আমাদের শিক্ষককে বেধড়ক মারধর করে। শিক্ষককে লক্ষ্য করে ডিমও ঝরে তারা। তবে পরবর্তীকালে পরিবারের তরফে একটি লিখিত অভিযোগ আমাকে জানানো হয়েছে। প্রশাসন এসেছিলেন তারা উদ্ধার করে শিক্ষককে নিয়ে গেছেন।
অন্যদিকে এ বিষয়ে অভিযোগকারী পরিবারে যোগাযোগ করা হলে তারা অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পরবর্তীকালে কোন প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি।
অন্যদিকে পুরো ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে শান্তিপুর থানার পুলিশ। যদিও এই ঘটনা এখনও পর্যন্ত বিদ্যালয়ের তরফে কিংবা ওই পরিবারের তরফে শান্তিপুর থানায় কোন লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।