প্রাক্তন ভারতীয় অফ-স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন মনে করেন, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের (MI) তারকা ব্যাটার রোহিত শর্মা আগামী বছরই আইপিএল থেকে অবসর নেবেন, এমনটা এখনই বলা যায় না।অশ্বিনের মতে, রোহিত কবে অবসর নেবেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। এই প্রসঙ্গে তিনি কিংবদন্তি উইকেটকিপার-ব্যাটার মহেন্দ্র সিং ধোনির উদাহরণ টেনেছেন। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক হওয়ার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নামান ধীরেরও প্রশংসা করেছেন তিনি। অশ্বিনের মতে, নামানের চিন্তাভাবনা পরিষ্কার এবং তিনি চাপের মধ্যেও শান্ত থাকতে পারেন।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে অশ্বিন বলেন, “রোহিত আর মাত্র এক বছর খেলবেন, নাকি আরও বেশ কয়েক বছর খেলবেন, তা আমরা জানি না। ধোনিকে নিয়েও একই কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি বছরের পর বছর খেলে গিয়েছেন এবং সম্ভবত আগামী মরশুমেও খেলোয়াড় হিসেবে ফিরবেন। ভবিষ্যতে নামান ধীরকেও অধিনায়ক হওয়ার সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে আমি উড়িয়ে দিচ্ছি না। ওর চিন্তাভাবনার স্বচ্ছতা এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও শান্ত থাকার ক্ষমতা রয়েছে।”
আইপিএলের ইতিহাসে অন্যতম সফল ব্যাটার রোহিত শর্মা। এখনও পর্যন্ত ২৮১টি ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ৭,৩২৯ রান। তাঁর সর্বোচ্চ স্কোর অপরাজিত ১০৯ রান। আইপিএলে তাঁর ব্যাটিং গড় ২৯.৯১ এবং স্ট্রাইক রেট ১৩২.৯২। এই প্রতিযোগিতায় তিনি দুটি শতরান এবং ৪৯টি অর্ধশতরান করেছেন। পাশাপাশি, তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৬৬১টি চার এবং ৩২৩টি ছক্কা।২০০৮ সালে ডেকান চার্জার্সের হয়ে আইপিএল যাত্রা শুরু করেছিলেন রোহিত। ২০১১ সালে তিনি যোগ দেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে। তাঁর আইপিএল কেরিয়ারে রয়েছে মোট ছয়টি শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব। এর মধ্যে ২০০৯ সালে ডেকান চার্জার্সের হয়ে একটি এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে পাঁচটি ট্রফি জিতেছেন তিনি।রোহিতের নেতৃত্বেই ২০১৩, ২০১৫, ২০১৭, ২০১৯ এবং ২০২০ সালে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয় মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। এর ফলে প্রতিযোগিতার ইতিহাসে অন্যতম সফল অধিনায়ক হিসেবে নিজের জায়গা পাকা করেছেন তিনি।
এদিকে, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় মন্তব্য করেছেন অশ্বিন। তাঁর ধারণা, শেষ মুহূর্তে মুম্বই তাঁকে ধরে রাখার সিদ্ধান্ত না নিলে ট্রেডের মাধ্যমে অন্য দলে চলে যেতে পারেন হার্দিক।অশ্বিনের মতে, হার্দিকের বদলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স কোনও লেগ-স্পিনার অথবা পাঞ্জাব কিংসের কোনও ভারতীয় বাঁহাতি পেসারকে দলে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।এই প্রসঙ্গে অশ্বিন বলেন, “প্রায় নিশ্চিতভাবেই মনে হচ্ছে, শেষ মুহূর্তে মুম্বই তাঁকে ধরে রাখার সিদ্ধান্ত না নিলে হার্দিক আর এই দলে থাকবেন না। তবে আমার বিশ্বাস, তাঁকে ট্রেড করা হতে পারে। হার্দিকের বদলে মুম্বই কোনও লেগ-স্পিনারকে দলে নিতে চাইতে পারে। এমন কথাও শোনা গিয়েছিল যে, হার্দিকের বদলে পাঞ্জাব কিংসের কোনও ভারতীয় বাঁহাতি পেসারকে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে মুম্বই।”
২০২৪ সালে গুজরাট টাইটান্স ছেড়ে পুরনো দল মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে ফিরে আসেন হার্দিক। এরপর রোহিত শর্মার পরিবর্তে তাঁকে দলের অধিনায়ক করা হয়। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম মরশুমও ভালো কাটেনি হার্দিকের। ১৪টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র চারটিতে জিতে পয়েন্ট তালিকার একেবারে শেষ স্থানে শেষ করেছিল মুম্বই।রোহিতের মতো সফল অধিনায়কের জায়গায় দায়িত্ব নেওয়ায় শুরু থেকেই প্রবল চাপের মুখে পড়তে হয় হার্দিককে। দলের নেতৃত্বে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করাও তাঁর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।তবে ২০২৫ সালে হার্দিকের নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়ায় মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। লিগ পর্বে চতুর্থ স্থানে শেষ করে প্লে-অফে জায়গা করে নেয় দলটি। কিন্তু কোয়ালিফায়ার-২-তে পাঞ্জাব কিংসের কাছে হেরে তাদের অভিযান শেষ হয়।অন্যদিকে, ২০২৬ সালের মরশুম মুম্বইয়ের জন্য আবারও হতাশাজনক হয়ে ওঠে। প্রথম ১২টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র চারটিতে জিতেছিল দলটি। শেষ পর্যন্ত চারটি জয় ও ১০টি হার নিয়ে পয়েন্ট তালিকায় নবম স্থানে শেষ করে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স।হার্দিকের নেতৃত্বে তিন মরশুমের মধ্যে দ্বিতীয়বার প্লে-অফে উঠতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁর অধিনায়কত্ব নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক হিসেবে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।