১৯৮ কেজি ওজন তুলে প্রথম বার এশিয়ান গেমসের পোডিয়ামে উঠলেন ৩২ বছরের মীরাবাই।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : অলিম্পিকের রুপো ছিল। কমনওয়েলথ গেমসে তিনটি সোনা, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ও এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও পদক ছিল। শুধু এশিয়ান গেমসের পদকটাই এত দিন অধরা ছিল মিরাবাই চানুর। বুধবার সেই আক্ষেপও মুছে গেল। আয়চি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে মহিলাদের ৪৯ কেজি বিভাগে রুপো জিতে নিজের পদকের সংগ্রহ সম্পূর্ণ করলেন ভারতের তারকা ভারোত্তোলক।
মীরাবাই মোট ১৯৮ কেজি তোলেন। স্ন্যাচে তিনটি প্রচেষ্টাতেই সফল হন তিনি—৮৩, ৮৫ এবং ৮৭ কেজি। ক্লিন অ্যান্ড জার্কে প্রথম বার ১০৭ কেজি তোলার পর দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ১১১ কেজি তোলেন। শেষ পর্যন্ত ১৯৮ কেজি নিয়েই রুপো নিশ্চিত করেন তিনি। উত্তর কোরিয়ার রি সং গুম ২১৫ কেজি তুলে সোনা জেতেন। ব্রোঞ্জ পান উইজায়ানা।
মীরাবাইয়ের কাছে এই পদকের গুরুত্ব অন্য রকম। ২০২৩ সালের হাংঝৌ এশিয়ান গেমসে চোটের কারণে শেষ ক্লিন অ্যান্ড জার্কে নামতে পারেননি তিনি। ফলে চতুর্থ হয়েই ফিরতে হয়েছিল। তিন বছর পর এশিয়ান গেমসে ফিরে সেই অপূর্ণতাই পূরণ করলেন তিনি।
এই রুপোর ফলে কর্ণম মল্লেশ্বরীর পর দ্বিতীয় ভারতীয় ভারোত্তোলক হিসাবে অলিম্পিক, এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ গেমস, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ, এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপ—ছয়টি বড় প্রতিযোগিতায় পদক জয়ের নজির গড়লেন মিরাবাই।
মণিপুরের নংপোক কাকচিংয়ের মেয়ে মিরাবাইয়ের পথটা অবশ্য সহজ ছিল না। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট তিনি। বাবা পূর্ত দফতরে কাজ করতেন, মা চালাতেন ছোট দোকান। ছোটবেলায় পাহাড়ি পথে জ্বালানি কাঠ কুড়িয়ে আনা, জল বয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো কাজ থেকেই তাঁর শক্তির পরিচয় মিলেছিল। প্রথমে তিরন্দাজ হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও পরে ভারোত্তোলনের দিকে চলে আসেন।
২০০৮ সালে আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ শুরু। গ্রাম থেকে ইম্ফলে যাতায়াতের টাকাও সব সময় থাকত না। অনেক সময় ট্রাকচালকদের সাহায্যে প্রশিক্ষণে পৌঁছতেন। সেই মীরাবাই ২০১৭ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হন। ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জেতেন। টোকিয়ো অলিম্পিকেও রুপো পেয়েছিলেন।
প্যারিসে চতুর্থ হলেও থামেননি। ২০২৫ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের পর এ বার এশিয়ান গেমসেও পদক। এশিয়াডের রুপো দিয়ে তাই মীরাবাইয়ের পদক-তালিকায় আর কোনও বড় শূন্যতা রইল না।