বাংলাদেশে শ্রমিক অসন্তোষ সামাল দিতে ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

বাংলাদেশে শ্রমিক অসন্তোষের জেরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজিপুর, নারায়ণগঞ্জ এবং সংলগ্ন শিল্পাঞ্চলে ১২ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিজিবির তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে এই খবর জানানো হয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কলকারখানার কাজকর্ম স্বাভাবিক রাখতেই এই পদক্ষেপ।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

বিজিবি জানিয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছেন মোতায়েন করা জওয়ানরা। বর্তমানে গাজিপুরের সফিপুর, কালিয়াকৈর এবং কোনাবাড়ি এলাকায় ১০ প্লাটুন বিজিবি রয়েছে। অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে আরও ২ প্লাটুন। আশুলিয়া ও মিরপুর-সহ আশপাশের এলাকাগুলির পরিস্থিতির উপরও নজর রাখা হচ্ছে।

পরিস্থিতির উপর দ্রুত নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে বিজিবি। ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন এবং জওয়ানদের পোশাকে লাগানো বিশেষ ক্যামেরা। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, মোড় এবং স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি, কর্তব্যরত জওয়ানদের কাজকর্মও পোশাকে লাগানো ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর ফলে বাহিনীর কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

বিজিবির সদর দফতরে তৈরি বিশেষ কন্ট্রোল রুম থেকে ড্রোন ও ক্যামেরার সরাসরি ছবি দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যালোচনা, বিভিন্ন এলাকার বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। বিজিবি জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং শিল্পাঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে তারা সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে নজরদারি এবং অভিযান চালানো হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলন চলছে। এর জেরে বেশ কয়েক দিন ধরেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে। মঙ্গলবার ঢাকার মিরপুর এলাকায় মজুরির দাবিতে আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। টানা চার দিন ধরে চলছে শ্রমিকদের এই বিক্ষোভ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে।