“আমেরিকা ইরানের আলোচনা ইতিবাচক”

রাষ্ট্রসংঘের বৈঠকের ফাঁকে আমেরিকা-ইরান আলোচনা, ‘ইতিবাচক’ বললেন ট্রাম্পের দূত

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার আবহেই আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ফের আলোচনা। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দু’পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে কথাবার্তা হয়েছে বলে জানালেন আমেরিকার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। তাঁর দাবি, আলোচনা ছিল ‘‘গঠনমূলক এবং আশাব্যঞ্জক’’। অন্য দিকে, ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমও নিশ্চিত করেছে, নিউ ইয়র্কে উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

মঙ্গলবার এক্স-এ একটি পোস্টে উইটকফ জানান, রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার ফাঁকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। তাঁর কথায়, মধ্যস্থতাকারীরা দিনভর দুই পক্ষের মধ্যে যাতায়াত করে আলোচনায় সমন্বয় করেছেন। একটি দফার আলোচনা শেষ হয়েছে। মধ্যস্থতাকারীরা আগামী দিনেও তাঁদের কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানান তিনি।

ইরানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম IRIB-ও আরাঘচি এবং উইটকফের বৈঠকের কথা জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, উইটকফের অনুরোধেই বৈঠকটি হয়। আল জাজ়িরার উদ্ধৃত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী ফের খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের কিছু শর্ত রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে নৌ অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার, ইরানের জমে থাকা অর্থ ছেড়ে দেওয়া এবং লেবানন-সহ সমস্ত ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানিয়েছিলেন, ইরান নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকে আমেরিকার তরফে উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ছিলেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সময় ট্রাম্প বলেন, আলোচনা প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে এবং তা ‘‘খুব ভাল’’ হয়েছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের সামনে দু’টি পথ রয়েছে—এক দিকে ‘‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’’, অন্য দিকে সম্ভাব্য ‘‘মহান ভবিষ্যৎ’’। তাঁর দাবি, ইরান কেন আলোচনার পথ বেছে নেবে না, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার মঞ্চে যখন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতারা জড়ো হয়েছেন, তখনই আমেরিকা-ইরানের এই পরোক্ষ আলোচনা নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালী, নিষেধাজ্ঞা এবং যুদ্ধ বন্ধের মতো ইরানের শর্তগুলি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে এখনও কতটা সমঝোতা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।