‘পাকিস্তানকে কর্মফল ভুগতে হবে’

রাষ্ট্রসংঘে শাহবাজ়কে ভারতের পাল্টা জবাব, ‘পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদের ফল ভুগতে হবে।’

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিল ভারত। ‘রাইট টু রিপ্লাই’ প্রয়োগ করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদে মদত, গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে দ্বিচারিতা এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুললেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের পার্মানেন্ট মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি পেটাল গহলৌত। জম্মু ও কাশ্মীর নিয়েও পাকিস্তানের বক্তব্য খারিজ করে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।

সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে পেটাল বলেন, পাকিস্তানের দীর্ঘ দিনের আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদই মূল সমস্যা। তাঁর কথায়, ‘‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করার অধিকার ভারত প্রয়োগ করবে এবং করে যাবে। পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদের ফল ভুগতে হবে।’’

পাকিস্তানের বক্তব্যকে ‘মিথ্যাচার’ বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, বছরের পর বছর একই মিথ্যা বললেই তা সত্যি হয়ে যায় না। তাঁর অভিযোগ, সন্ত্রাসবাদ, প্রতারণা এবং দ্বিচারিতা পাকিস্তানের যেমন কোনও উপকার করবে না, তেমনই বিশ্বেরও কোনও কাজে আসবে না।

জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের বক্তব্যের জবাবে পেটাল বলেন, ভারতের কাছে এই অঞ্চল দেশের ‘‘অবিচ্ছেদ্য এবং অবিচ্ছিন্ন অংশ’’। তবে কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা হলে পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতির দিকেও নজর দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। সেখানে হিংসা, হত্যাকাণ্ড এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার হরণের অভিযোগও তোলেন ভারতীয় প্রতিনিধি।

গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রসঙ্গেও পাকিস্তানকে নিশানা করেন পেটাল। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের রাজধানীই বর্তমানে নিজেদের মানুষের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য কঠোর নিরাপত্তায় ঘেরা। পাকিস্তানের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে তিনি ‘সেনাবাহিনীর দ্বারা এবং সেনাবাহিনীর জন্য পরিচালিত’ বলে অভিহিত করেন। ২৭তম সংবিধান সংশোধনী এবং পাকিস্তানের ‘প্রকৃত শাসক’-এর আজীবন দায়মুক্তির প্রসঙ্গও তোলেন তিনি।

ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা নিয়ে পাকিস্তানের বক্তব্যেরও পাল্টা জবাব দিয়েছে ভারত। সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি এবং ব্লাসফেমি আইনের প্রসঙ্গ তুলে পাকিস্তানের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পেটাল।

সেপ্টেম্বর ১১-র হামলার ২৫ বছর পূর্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি ওসামা বিন লাদেনের কথাও স্মরণ করান। তাঁর দাবি, আল-কায়দা প্রধান পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কাছে দীর্ঘদিন অবস্থান করেছিলেন। সব মিলিয়ে রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত আরও এক বার বিশাল আকার নিল, তা বলাই বাহুল্য।