ইরানের সংঘর্ষবিরতির প্রস্তাব খারিজ ট্রাম্পের

ট্রাম্পের ‘না’। তবুও ইরানের বার্তা, ‘আমেরিকা রাজি হলেই শুরু হবে আলোচনা।’

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে আমেরিকা-ইরান কূটনৈতিক টানাপড়েন আরও বাড়ল। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমনই দাবি করেছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তার পরেই নিউ ইয়র্ক থেকে তেহরানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন পেজেশকিয়ান। তবে তাঁর বার্তা, আমেরিকা প্রস্তাবে রাজি হলেই আলোচনা শুরু হতে পারে।

রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে গিয়েছিলেন পেজেশকিয়ান। সেখানে সুইৎজ়ারল্যান্ড, ইরাক, বাংলাদেশ, নরওয়ে, আর্মেনিয়া, নেদারল্যান্ডস, লেবানন ও পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে আলাদা ভাবে বৈঠক করেন তিনি। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এবং রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিবের সঙ্গেও বৈঠক হয় তাঁর।

আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, দু’দেশের মধ্যে এখন ‘‘অবিশ্বাসের আবহ’’ তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, সমঝোতার পথে এগোতে হলে প্রথমে স্পষ্ট করতে হবে, ঠিক কোন বিষয়ে দু’পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছতে চাইছে। তাঁর কথায়, এই বার্তা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বা আলোচনায় যুক্ত ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছলে এবং তাঁরা তা মেনে নিলে ‘‘সেই দিন থেকেই প্রক্রিয়া শুরু হবে’’।

ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচিও জানিয়েছেন, সংঘাত থামাতে আমেরিকার কাছে সাত দিনের একটি পরিকল্পনা পাঠিয়েছে তেহরান। সেই প্রস্তাবে রয়েছে সপ্তম দিনের শেষে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং তার পর ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ফের শুরু করা।

আরাঘচির দাবি, জুন মাসে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতার ভিত্তিতেই নতুন প্রস্তাব তৈরি হয়েছে। জার্মান বিদেশমন্ত্রী ইয়োহান ভাডেফুলের সঙ্গেও বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, কূটনৈতিক পথে ফেরার জন্য ইরান ‘‘যুক্তিসঙ্গত শর্ত’’ জানিয়েছে।

অন্য দিকে, রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানকে নিয়ে তাঁকে বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি একই সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনার কথা বললেও প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

ইরানের দাবি, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার দরজা এখনও খোলা। তবে তেহরানের অভিযোগ, আলোচনার সময়ই আমেরিকা ও ইজ়রায়েল সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে অবিশ্বাসের আবহে কূটনৈতিক সমাধানের পথ কতটা এগোয়, এখন সেটাই দেখার।