মাত্র ৬ সেকেন্ডে পাহাড় নদীতে!

নেপালে ধসের ভয়াবহ দৃশ্য, হাহাকার গ্রামবাসীর।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : চোখের সামনে মুহূর্তে বদলে গেল গোটা দৃশ্য। মাত্র ছয় সেকেন্ড! তার মধ্যেই পাহাড়ের একাংশ ভেঙে গড়িয়ে পড়ল নদীতে। কোথাও মাটি ধসে তলিয়ে গেল বাড়িঘর, কোথাও গাছপালার সঙ্গে পাহাড়ের ঢাল নেমে গেল উপত্যকায়। নেপালে প্রবল বৃষ্টি, বন্যা এবং ধসের মধ্যে এমনই ভয়াবহ দৃশ্য ধরা পড়েছে দু’টি ভিডিয়োয়। আতঙ্কে চিৎকার করছেন স্থানীয়েরা।

প্রথম ভিডিয়োটি মুস্তাং জেলার লেতে এলাকার। রবিবার নতুন করে বন্যা ও ধস নামার সময় চারধাম যাত্রীদের ক্যামেরায় দৃশ্যটি ধরা পড়ে। দেখা যায়, পাহাড়ের একটি বড় অংশ মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ভেঙে কালীগণ্ডকী নদীতে গিয়ে পড়ছে। ধসের বিপুল ধাক্কায় কিছু সময়ের জন্য নদীর জলপ্রবাহও আটকে যায়। পরে পাথর ও ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে ফের জল এগোতে শুরু করে। ভিডিয়োয় আতঙ্কে স্থানীয়দের চিৎকার শোনা গিয়েছে।

দ্বিতীয় ভিডিয়োটি আরও ভয়াবহ। পাহাড়ের ঢাল থেকে ক্যামেরায় দেখা যায়, আচমকাই মাটি বসে গিয়ে উপত্যকার দিকে নেমে যাচ্ছে। একটি পাথর ও কাঠের তৈরি আশ্রয়স্থলের অংশ এবং বেশ কয়েকটি গাছও ধসের সঙ্গে নীচে চলে যায়। ক্যামেরা ঘুরতেই গ্রামবাসীদের আর্তনাদ শোনা যায়—‘‘বাড়ি তো শেষ হয়ে গেল!’’ এক মহিলাকেও কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।

টানা তিন দিনের প্রবল বৃষ্টির জেরে শনিবার থেকেই কালীগণ্ডকী নদীর জল বাড়তে শুরু করেছিল। রবিবার তা ভয়াবহ আকার নেয়। মুস্তাং, মিয়াগদি, পার্বত এবং স্যাংজ্যা-সহ একাধিক এলাকায় নদীর জল ও ধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পার্বতের একটি গ্রামে কার্যত গোটা বসতিই ভেসে গিয়েছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ধসে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজও ব্যাহত হচ্ছে।

প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বন্যা ও ধসে নেপালের বিভিন্ন জেলায় অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ ১৪ জন। এর মধ্যেই মানাং জেলায় হিমলুং হিমালের বেস ক্যাম্পে তুষারধসে আরও দু’জনের মৃত্যু হয়েছে, নিখোঁজ ১০ জন।

অগাস্টের শেষেও ভোটেকোশীতে ভয়াবহ বন্যার সাক্ষী হয়েছিল নেপাল। পর পর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফের আতঙ্কে পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দারা।