উড়ন্ত বিমানে সহ-পাইলটের ছুরির আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলেও তাঁর সাহস ও আত্মবিশ্বাস ছিল অটুট। তিনি ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। ফ্লাইদুবাইয়ের বিমান FZ1073-তে ভয়াবহ হামলার পর রাতারাতি হিরো হয়ে গিয়েছেন পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। কিন্তু যাত্রীদের প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে এখন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি।

আকাশে তখন ছুটছে বিমান। গন্তব্য তেল আভিভ। আচমকাই ককপিটের ভিতর শুরু হল ভয়াবহ তাণ্ডব। সহ-পাইলটের ছুরির আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। কিন্তু সেখানেই শেষ নয়। গুরুতর আহত অবস্থাতেও শেষ মুহূর্তে ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন তিনি। তাঁর সেই পদক্ষেপেই বেঁচে গেলেন বিমানের বহু যাত্রী।
বুধবার দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে উড়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের বিমান FZ1073। অভিযোগ, মাঝ আকাশে ককপিটের ভিতরেই সহ-পাইলট স্মিতকে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করেন। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মুখপাত্রের দাবি, সহ-পাইলট বিমানটিকে ইচ্ছাকৃত ভাবে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন।
নেতানিয়াহুর মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, রক্তাক্ত অবস্থায় ককপিটের মেঝেতে পড়ে ছিলেন স্মিত। সেই অবস্থাতেই তিনি কোনও ভাবে ককপিটের দরজা খোলার ‘রিলিজ’ বোতাম টিপতে সক্ষম হন। দরজা খুলতেই যাত্রী এবং বিমানের কর্মীরা ভিতরে ঢুকে সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বিমানে ঘটনাচক্রে ফ্লাইদুবাইয়ের আরও দুই পাইলট যাত্রী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। পরিস্থিতি সামলে তাঁরাই বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন। শেষ পর্যন্ত তেল আভিভে না গিয়ে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।
গুরুতর আহত স্মিতকে প্রথমে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এক দিন পর, বৃহস্পতিবার, তাঁকে অন্য একটি বিমানে করে চিকিৎসার জন্য দুবাইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
মাঝ আকাশে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করে যাত্রীদের সামনে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া—স্মিতের সেই পদক্ষেপ এখন গোটা বিশ্বের সামনে তাঁকে হিরো বানিয়ে দিয়েছে। সহ-পাইলটের হামলার উদ্দেশ্য এবং ঘটনার সম্পূর্ণ কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।