হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা! আহত ১১ ভারতীয় নাবিক

পশ্চিম এশিয়ার অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) একটি বাণিজ্যিক জাহাজে পুনরায় ক্ষেপণাস্ত্র/প্রজেক্টাইল হামলার ঘটনা ঘটেছে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

হামলায় ১১ জন ভারতীয় নাবিকসহ মোট ১২ জন ক্রু সদস্য আহত হয়েছেন।

​১. ঘটনার বিবরণ ও আক্রান্ত জাহাজ
​আক্রান্ত জাহাজ: পানামার পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমটি অন পিস’ (MT On Peace)।
​ঘটনার স্থান: ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক জলসীমা।
​হামলার ধরন: ওমান উপকূল অতিক্রম করার সময় জাহাজটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র বা শক্তিশালী প্রজেক্টাইল ছোঁড়া হয়।
​ক্রু সদস্য: জাহাজটিতে মোট ১৯ জন ক্রু সদস্য ছিলেন, যার মধ্যে ১৭ জনই ভারতীয় নাগরিক।
​২. হতাহত ও উদ্ধার অভিযান
​প্রজেক্টাইলের আঘাতে জাহাজে থাকা ১২ জন ক্রু সদস্য আহত হন, যাঁদের মধ্যে ১১ জনই ভারতীয় নাবিক।
​হামলার পর ওমানি প্রশাসনের সহায়তায় আহত নাবিকদের দ্রুত জাহাজ থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
​বর্তমানে ওমানের খাসাব (Khasab) এলাকার হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
​ওমান সরকারের দ্রুত এই সহায়তার জন্য ভারতের বিদেশ মন্ত্রক তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছে।
​৩. নয়াদিল্লির প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ
​ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার:
​কড়া নিন্দা: ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) এক বিবৃতিতে কড়া ভাষায় এই আক্রমণের তীব্র নিন্দা করেছে।
​বাণিজ্য পথ সুরক্ষার আহ্বান: বাণিজ্যিক জাহাজ, অসামরিক পরিকাঠামো এবং নাবিকদের লক্ষ্য করে হামলা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে দিল্লি।
​বাণিজ্য পুনরুদ্ধারের দাবি: পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির মতো আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পথে অবাধ ও নিরাপদ নৌ-চলাচল দ্রুত পুনরুদ্ধারের দাবি জানানো হয়েছে।
​৪. ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব এবং সার্বিক পরিস্থিতি
​তেল সরবরাহে আঘাত: হরমুজ প্রণালি হলো বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহন পথ, যেখান দিয়ে বিশ্ববাজারের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি (LNG) পরিবাহিত হয়।
​ঘন ঘন আক্রমণ: পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত ও উত্তেজনার ফলে এই সামুদ্রিক রুটে বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কারগুলোর ওপর বারবার হামলা চালানো হচ্ছে। গত কিছুদিনেও কুয়েতি ট্যাঙ্কারসহ একাধিক কার্গো জাহাজে একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা বিশ্বব্যাপী সমুদ্র-বাণিজ্যের নিরাপত্তা ও জ্বালানির দাম নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি করেছে।