নেতানিয়াহুর ঘুরে দাঁড়ানোর কৃতিত্ব ট্রাম্পের!

ইজরায়েলের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। ভোটগণনা যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে, শেষ হাসি কে হাসবেন, তা এখনই বলা কঠিন। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ঘুরে দাঁড়ানোর কৃতিত্ব নিতে শুরু করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন ঘোষণার পরেই বদলে গিয়েছে নির্বাচনের হাওয়া। যদিও এখনও পর্যন্ত পাওয়া পরিসংখ্যানে কোনও শিবিরই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি পৌঁছতে পারেনি।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

বুধবার সকাল ৭টা ৪৩ মিনিট পর্যন্ত পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, ইজরায়েলে ৫৫.৪ শতাংশ ভোট গণনা হয়েছে। তাতে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের ঝুলিতে ৫৫টি আসন যাওয়ার সম্ভাবনা। অন্য দিকে, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৯টি আসন। দুই আরব জোটের মধ্যে জয়েন্ট লিস্টের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ১২ এবং ইউনাইটেড আরব লিস্টের ৪। তবে এই পরিসংখ্যান প্রাথমিক। গণনা সম্পূর্ণ হলে ছবিটা বদলাতে পারে। সেনাবাহিনীর সদস্যদের ভোট-সহ খামে জমা পড়া ভোটের গণনাও এখনও বাকি।

এই পরিস্থিতিতেই নিজের সমাজমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ নেতানিয়াহুর সাফল্যের কৃতিত্ব দাবি করেছেন ট্রাম্প। ইরভিং সি শোয়ার্টজের একটি মন্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পের সমর্থন ঘোষণার পরেই নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারের মোড় ঘুরেছে। এমনকি যে নির্বাচনে নেতানিয়াহুর বড় ব্যবধানে হারের আশঙ্কা ছিল, সেখানে এখন তাঁর জয় অথবা হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলেও ওই মন্তব্যে দাবি করা হয়।

এর আগে টেক্সাসে একটি সভায় যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেছিলেন, নেতানিয়াহুর পক্ষে তাঁর সমর্থন নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলেছে বলে তিনি মনে করেন। যদিও নির্বাচনের ফলাফল এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

অন্য দিকে, নেতানিয়াহুর দাবি, ইহুদি ভোটার এবং ইজরায়েলের ইহুদি রাষ্ট্রের সমর্থকদের মধ্যে দক্ষিণপন্থী শিবিরের উল্লেখযোগ্য সমর্থন রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, দেশে শক্তিশালী দক্ষিণপন্থী সরকার গঠন করতে হবে। আরব দলগুলির সমর্থনের উপর নির্ভরশীল সরকার গঠনেরও বিরোধিতা করেছেন তিনি।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর এই প্রথম ইজরায়েলে সাধারণ নির্বাচন হচ্ছে। নিরাপত্তা, নেতৃত্বের দায়বদ্ধতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধীনতা নিয়ে বিভক্ত দেশ। দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা নেতানিয়াহুর সামনে এবার কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান আইজেনকোট। ফলে শেষ পর্যন্ত কার পাল্লা ভারী হয়, এখন সেটাই দেখার।