উত্তরপ্রদেশে বিধান পরিষদ (এমএলসি) নির্বাচন ঘিরে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুললেন সমাজবাদী পার্টির (সপা) প্রধান অখিলেশ যাদব। গণনায় অনিয়ম করে সপা প্রার্থী সঞ্জয়ন ত্রিপাঠীকে হারানোর ষড়যন্ত্র হয়েছে বলে দাবি তাঁর। শুধু তা-ই নয়, শিক্ষক সমাজকে অপমান করার অভিযোগ তুলে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে হারানোর ডাকও দিয়েছেন অখিলেশ।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
বুধবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে অখিলেশের অভিযোগ, বিজেপি নেতাদের একাংশ, তাঁদের ঘনিষ্ঠ এবং প্রশাসনের কিছু আধিকারিক একজোট হয়ে গণনায় কারচুপি করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘বিজেপি ভোটে জেতে না, অসৎ উপায় অবলম্বন করে জেতে।’’ সঞ্জয়নকে হারানোর পিছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কাজ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। অখিলেশের অভিযোগ, এই ঘটনায় শিক্ষক সমাজের পাশাপাশি সঞ্জয়নের সম্প্রদায়ের মানুষও ক্ষুব্ধ।
গোরক্ষপুর-ফৈজাবাদ ডিভিশনের শিক্ষক কেন্দ্রের ভোটগণনাকে ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত। সপা প্রার্থী সঞ্জয়ন ত্রিপাঠী এবং নির্দল প্রার্থী রাজীব যাদব গণনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রক্রিয়া বয়কট করেন। সঞ্জয়নের দাবি, প্রথম তিন দফায় রাজীব প্রায় ৪৫০ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু তার পরেই আচমকা গণনার প্রবণতা বদলে যায় এবং বিজেপি প্রার্থীর পক্ষে ফল যেতে শুরু করে। প্রশাসনিক আধিকারিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীন ভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
এর আগেও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়ে গণনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছিলেন অখিলেশ। অনিয়ম হলে আন্দোলন এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি।
শুধু গোরক্ষপুর-ফৈজাবাদ নয়, বেরেলি-মোরাদাবাদ শিক্ষক কেন্দ্রেও ভোটার তালিকা ও ভোটপ্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন সপা প্রার্থী দানিশ আখতার।
এদিকে, লখনউয়ে সপা প্রার্থী কান্তি সিংয়ের এজেন্ট রাম সিং রানার দাবি, চার দফার গণনা শেষে কান্তি পেয়েছেন ২৫,৩৮২ ভোট। বিজেপি প্রার্থী অবনীশ সিংয়ের ঝুলিতে ১৭,৭৯৭ ভোট। গণনা চলাকালীন বাধা ও পুলিশি লাঠিচালনার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে অখিলেশের বার্তা, শিক্ষকদের অপমানের জবাব ২০২৭ সালের বিধানসভা ভোটেই দেবে উত্তরপ্রদেশ। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই আরও তীব্র করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন সপা প্রধান।