এখনও যেন দুঃস্বপ্ন মনে হচ্ছে। গাইঘাটায় ১৭ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ও দেহ উদ্ধার। আর তাকে কেন্দ্র করে পুলিশের এনকাউন্টার। অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের মৃত্যু। যে মৃত্যু নিয়েই চলছে তরজা।

সত্যজিৎ চক্রবর্তী, নিজস্ব সংবাদদাতা
পাড়ার ভালো ছেলেটা কী করে অপরাধী হয়ে উঠল তা ভাবতে গিয়েই হতবাক পড়শিরা। এই ঘটনার পিছনে উঠে আসছে একটি প্রেমের কাহিনী। প্রেম ভাঙার আঘাত, প্রত্যাখান। তবে কি দীর্ঘদিনের চাপা রাগ, অভিমান থেকেই প্রহ্লাদের অপরাধ মনস্ক হয়ে ওঠা ? না হলে যে ছেলে পুলিশ হতে চাইতো সে কিনা পুলিশের গুলিতেই মরল।
প্রহ্লাদের মা জানাচ্ছেন ছেলে পড়াশোনা করত। পুলিশকে সম্মান করত। ছেলে কম্পিউটারের স্টুডেন্ট, এনসিসিতে ফার্স্ট হয়েছে। সেই সার্টিফিকেটও রয়েছে ঘরে। পড়াশোনা করে পুলিশ হতে চাইত সে। সেই ছেলে কী করে পুলিশের গুলিতে এনকাউন্টার হল তা ভেবে পাচ্ছেন না প্রহ্লাদের মা।
প্রহ্লাদ গোবরডাঙা হিন্দু কলেজে দ্বিতীয় বর্ষ পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিল। অর্থের অভাবে আর পড়া হয়নি। সম্প্রতি একটি সেলুন খুলেছিল । সেলুনে কিশোরীর যাতায়াত ছিল বলে দাবি প্রহ্লাদের বাবার। এমনকি পুজোতেও প্রহ্লাদের কাছে চুল কেটেছিল ওই কিশোরী। তারপর যে কোথা থেকে কী হয়ে গেল যেন হিসাব মেলাতে পারছে না প্রহ্লাদের পরিবার। অন্যদিকে প্রহ্লাদের পাড়ায় কান পাতলে শোনা যাচ্ছে অন্য কথা। শোনা গেছে কিশোরীর দিদির সঙ্গে নাকি প্রেমের সম্পর্ক ছিল প্রহ্লাদের। প্রেমের সম্পর্ক জানতে পেরে প্রহ্লাদের সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি হননি তাঁরা। নাটা বলেও তিরস্কার করা হয়েছিল তাকে। ছেলেকে ভেঙে পড়তে দেখে হাল ধরেন প্রহ্লাদের বাবা রামপ্রসাদ দাস। কী হয়েছিল প্রহ্লাদের সঙ্গে, দিদি-বোন দুজনের সঙ্গে কি সম্পর্ক ছিল প্রহ্লাদের ?
প্রহ্লাদের বাবা রামপ্রসাদ দাস জানাচ্ছেন, মেয়েটা আসে গল্প করে। কিন্তু ছেলে ওকে ফোন করত না। পুজোর সময়ে চুল কেটে গেছে। মেয়েটির একাধিক আত্মীয় তাদের প্রেমের সম্পর্কের কথা জানতেন বলেও দাবি করছেন তিনি। সম্পর্ক ভাঙার চাপা রাগ ছাই চাপা আগুনের মতোই হয়তো প্রহ্লাদের মনে গেঁথে ছিল।
প্রতিবেশীদের দাবি প্রহ্লাদ শান্ত স্বভাবের ছিল। কোনও নেশা সে করতো না। ভালো ছেলে বলেই পরিচিত ছিল সে। পাড়াশোনাতেও ভালো ছিল। কিন্তু মনের হদিশ কে রাখে?
সত্যি তো মনের হদিশ কে রাখে। মানুষ চেনা বড় দায়। আরেক প্রতিবেশীর কথায় ওই কিশোরীকেও প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল প্রহ্লাদ। তবে কি বারবার প্রেমে আঘাত মেনে নিতে পারেনি প্রহ্লাদ?
গোবরডাঙাকাণ্ডে তদন্ত এখন কোন দিকে এগোয় তার দিকে তাকিয়ে প্রহ্লাদের পরিবার। তবে যেই কারণেই এই পাশবিক ঘটনা তা কখনও সমর্থনযোগ্য নয়। আইন হাতে তুলে নেওয়া, কাউকে শেষ করে ফেলা সঠিক পথ হতে পারে না। প্রহ্লাদদের শাস্তি হওয়া জরুরি, তবে এটাও ঠিক সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এমনটাই দাবি প্রহ্লাদের পরিবার থেকে প্রতিবেশীদের।