পাকিস্তানকে কড়া জবাব জয়শঙ্করের!

সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত প্রশ্নকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রসঙ্ঘের অধিবেশন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : পাকিস্তান থেকে প্রশ্ন এল ভারতের দিকে… কিন্তু রাষ্ট্রসঙ্ঘের মাটিতে সেই প্রশ্নের জবাব এমনভাবে ফিরল, যে কয়েক সেকেন্ডেই চুপ পাকিস্তানের বয়ান! ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে পাকিস্তানি সাংবাদিকের প্রশ্ন—“When will your government stop sponsoring terrorism in Pakistan?” আর তারপরই জয়শঙ্করের পাল্টা— “A terrorist country is asking me that question. Come on.” অর্থাৎ, যে পাকিস্তান ভারতের দিকে আঙুল তুলতে এসেছিল, রাষ্ট্রসঙ্ঘের মাটিতেই সেই আঙুল ঘুরে গেল পাকিস্তানের দিকেই!

চলুন ঠিক কী ঘটেছিল, বিষয়টা একটু খতিয়ে দেখি। প্রশ্নটা ছিল সরাসরি। নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। হঠাৎ পাকিস্তানি সাংবাদিকের প্রশ্ন— ভারত কবে পাকিস্তানে সন্ত্রাসে মদত দেওয়া বন্ধ করবে? অভিযোগটা ছিল ভারতের বিরুদ্ধে। কিন্তু পাল্টা জবাব আসতেই বদলে গেল গোটা পরিস্থিতি। প্রশ্ন ছিল ভারতের বিরুদ্ধে… জবাব গিয়ে বিঁধল পাকিস্তানের বয়ানে!

মাত্র কয়েকটি শব্দেই পাল্টা আঘাত দেবে ভারত বোধহয় ধারণাই করতে পারেননি পাকিস্তানের ওই সাংবাদিক। জয়শঙ্করের উত্তর ছিল— “A terrorist country is asking me that question. Come on.” দীর্ঘ ব্যাখ্যা নয়। কোনও কূটনৈতিক জটিল শব্দ নয়। মাত্র কয়েকটি শব্দেই পাকিস্তানের প্রশ্নের কাঠামোকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। কথা কম… কিন্তু কূটনৈতিক বার্তা একেবারে স্পষ্ট! এর পরেও পাকিস্তানি সাংবাদিক তর্ক করছিলেন। তার জবাব দেওয়ার আর প্রয়োজন মনে করেননি জয়শঙ্করেরা। চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়েন তিনি এবং ভারতীয় প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যেরা। ঘর থেকে বেরিয়ে যান তাঁরা। সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত প্রশ্নকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রসঙ্ঘের অধিবেশন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

রাষ্ট্রসঙ্ঘের মাটিতে পাকিস্তানকে পাল্টা প্রশ্ন। এখানেই শেষ নয়। জয়শঙ্করের জবাবের পর ভারতের রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রতিনিধি হরিশ পার্বতনেনিও সাংবাদিককে কার্যত বুঝিয়ে দেন— আপনি উত্তর শুনেছেন, এবং উত্তর একেবারে স্পষ্ট। অর্থাৎ, ভারতের অবস্থান নিয়ে কোনও অস্পষ্টতা নেই। একজন উত্তর দিলেন… আরেকজন জানিয়ে দিলেন—বার্তাটা পরিষ্কার!

পাকিস্তানের অভিযোগের পাল্টা ভারতের পুরনো অবস্থান দীর্ঘদিনের। ভারত বহু বছর ধরেই পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় সন্ত্রাসী সংগঠন এবং সীমান্তপারের সন্ত্রাস নিয়ে অভিযোগ তুলে এসেছে। পাকিস্তান অবশ্য ভারতের অভিযোগ অস্বীকার করে। কিন্তু ভারত-পাকিস্তান কূটনীতিতে সন্ত্রাসের প্রশ্ন নতুন নয়। প্রায় প্রতিটি বড় সংঘাতেই এই ইস্যু সামনে এসেছে। কূটনীতির টেবিল বদলেছে, মঞ্চ বদলেছে… কিন্তু সন্ত্রাসের প্রশ্নটা একই রয়ে গেছে। কোনও বারই ইসলামাবাদ এই সমস্ত অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। অন্য দিকে, ভারতে জঙ্গিহানায় একাধিক বার পাকিস্তানের নাম জড়িয়েছে।

২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে হামলা। ২৬ জনের প্রাণহানি। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়। সংঘাত তীব্র হয়। ভারত ওই হামলার সঙ্গে পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের যোগের অভিযোগ তোলে। পহেলগাঁওয়ে হামলার জবাবে পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে সশস্ত্র সামরিক অভিযান চালিয়েছিল ভারত। ‘অপারেশন সিঁদুরে’ সে দেশের একাধিক জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। তারপর টানা চার দিন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সশস্ত্র সংঘাত চলেছে। পরে সংঘর্ষ থামলেও দুই দেশের সম্পর্ক এখনও তলানিতে। পহেলগাঁওয়ের দাগ মুছে যায়নি… তাই সন্ত্রাসের প্রশ্নে ভারতের জবাবও নরম নয়।

United Nations General Assembly-তেও একই লড়াই। রাষ্ট্রসঙ্ঘে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা যখন আন্তর্জাতিক সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনা করছেন, তখন ভারত-পাকিস্তান সংঘাতেও ফের সামনে চলে এল সন্ত্রাসের প্রসঙ্গ। একদিকে পাকিস্তানের অভিযোগ। অন্যদিকে ভারতের পাল্টা অভিযোগ। আর মাঝখানে আন্তর্জাতিক কূটনীতির সবচেয়ে বড় মঞ্চ— United Nations বা রাষ্ট্রসঙ্ঘ। মঞ্চ আন্তর্জাতিক… কিন্তু ভারত-পাকিস্তানের লড়াই এখনও আটকে সন্ত্রাসের প্রশ্নেই!

একদিন আগেও পাকিস্তানকে একই প্রশ্ন। এই ঘটনার আগের দিনই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে এক ভারতীয় সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন— “When will you stop harbouring terrorists?” অর্থাৎ United Nations General Assembly-র করিডরেই দুই দেশের সাংবাদিকদের প্রশ্নে উঠে আসছিল একই বিষয়। সন্ত্রাসবাদ। একদিন পাকিস্তানকে প্রশ্ন… পরদিন পাকিস্তানের সাংবাদিকের প্রশ্ন ভারতকে— রাষ্ট্রসঙ্ঘের মুখোমুখি দুই দেশের দুই বয়ান!

একটা প্রশ্ন দিয়ে শুরু হয়েছিল ঘটনা। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেটা পরিণত হল ভারত-পাকিস্তানের পুরনো কূটনৈতিক সংঘাতের প্রতিচ্ছবিতে। পাকিস্তানি সাংবাদিক ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেন। জয়শঙ্কর পাল্টা পাকিস্তানের বিরুদ্ধেই সন্ত্রাসের প্রশ্ন সামনে আনলেন। রাষ্ট্রসঙ্ঘের মাটিতে দাঁড়িয়ে বার্তা একটাই— সন্ত্রাসের প্রশ্নে ভারত পিছিয়ে কথা বলছে না। পাকিস্তান প্রশ্ন ছুড়েছিল ভারতের দিকে… জয়শঙ্করের জবাব সেই প্রশ্নকেই ঘুরিয়ে দিল পাকিস্তানের দিকে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের মাটিতে কয়েকটি শব্দই যেন বলে দিল— সন্ত্রাসের প্রশ্নে ভারতকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে এলে, পাল্টা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে পাকিস্তানকেও।