ইজরায়েল ভোটের আগে বিমানে হামলা, ইরানকে নিশানা নেতানিয়াহুর

বিমান তখন আকাশে। আচমকাই ককপিটে শুরু মরণপণ লড়াই। সহ-পাইলটের ছুরির আঘাতে রক্তাক্ত ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর। মুহূর্তের মধ্যে প্রায় ১৭০ জন যাত্রীর জীবন অনিশ্চিত। শেষ পর্যন্ত আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলে দেন ভারতীয় পাইলট। যাত্রী ও অন্য ক্রুদের হস্তক্ষেপে কাবু করা হয় হামলাকারীকে। সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073। এই নিয়ে মুখ খুলতে গিয়ে ইরানকে এবং তাদে ব়্যাডিকাল তত্ত্বকেই হাতিয়ার করলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

কিন্তু সেই ঘটনার পরেও কাটেনি রহস্য। কেন হামলা? সত্যিই কি বিমানটিকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল? হামলাকারী একাই কাজ করেছিলেন, না কি পিছনে ছিল কোনও সংগঠন? তদন্ত চলছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব এবং ইজ়রায়েলে। আমিরশাহির তদন্তকারীরা হামলার সঙ্গে কোনও সন্ত্রাসবাদী উদ্দেশ্য বা পূর্বপরিকল্পনার যোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।

এর মধ্যেই ঘটনার রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দিতে শুরু করেছেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, ওমানি সহ-পাইলট ‘ইসলামি উগ্রপন্থী মতাদর্শে প্ররোচিত’ হয়েছিলেন। তাঁর কথায়, ওই ব্যক্তি আত্মঘাতী মানসিকতা নিয়েই বিমানটিকে নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে থাকতে পারেন। তবে নেতানিয়াহুও জানিয়েছেন, হামলার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য বা নেপথ্যের কারও বিষয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি।

আরও এক ধাপ এগিয়ে ইরানের সম্ভাব্য যোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নেতানিয়াহু। তবে এখনও পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে হামলার কোনও যোগের প্রমাণ মেলেনি বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্য। ফলে এই মুহূর্তে ইরান-যোগ মূলত একটি তদন্তাধীন সম্ভাবনা।

ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন ইজ়রায়েলে নির্বাচন সামনে। নিরাপত্তা এবং ইরান-সংক্রান্ত আশঙ্কা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে। ফলে বিমান-কাণ্ড ঘিরে নেতানিয়াহুর বক্তব্যও নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।

তবে সব জল্পনার মাঝেই আপাতত আলোচনার কেন্দ্রে এক জনই—ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর। গুরুতর আহত হয়েও তাঁর উপস্থিত বুদ্ধিতেই বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।