ককপিটের ভিতর সহ-পাইলটের হামলা। মাথায় ‘ক্র্যাশ অ্যাক্স’-এর আঘাত। খুলির হাড় ভেঙে ঢুকে গিয়েছিল মস্তিষ্কের দিকে। তার পরেও হাল ছাড়েননি ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর। প্রাণপণ লড়াই করে ককপিটের দরজা খুলে দেন তিনি। তাঁর সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ১৭০-রও বেশি যাত্রী ও বিমানকর্মীর প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করে বলে দাবি সূত্রের।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
ঘটনাটি গত বুধবার দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানে ঘটে। একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩৮ বছরের ক্যাপ্টেন মচ্ছরের উপর আচমকা হামলা করেন তাঁর ওমানি সহ-পাইলট হামাদ আল-হামামি। অভিযোগ, ‘ক্র্যাশ অ্যাক্স’ দিয়ে আঘাত করার পাশাপাশি ছুরি দিয়েও তাঁকে হামলা করা হয়। গুরুতর জখম হয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হলেও নিয়ন্ত্রণ হারাননি মচ্ছর।
সূত্রের দাবি, হামলায় তাঁর মাথায় ‘ডিপ্রেসড স্কাল ফ্র্যাকচার’ হয়। অর্থাৎ খুলির একটি অংশ ভেঙে ভিতরের দিকে ঢুকে যায়। সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণের পর চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার করে খুলির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্গঠন করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সৌদি আরব থেকে আবু ধাবিতে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সামরিক হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন তিনি। তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলেই খবর।
মাথার পাশাপাশি হাত-পা, বুক এবং উপরের পেটেও আঘাত রয়েছে মচ্ছরের। ইতিমধ্যে পরিবারের সদস্যদের তাঁর সঙ্গে দেখা করার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ভিডিয়ো কলে কথা বলেছিলেন মচ্ছর। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, আহত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকা সত্ত্বেও বুঝতে পেরেছিলেন বিমানটি দ্রুত নীচে নামছে। ‘‘আমি অন্যদের মরতে দেব না’’—এই সংকল্পেই শেষ শক্তি দিয়ে ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করেন তিনি। দরজা খুলতেই যাত্রী ও বিমানকর্মীরা ভিতরে ঢুকে সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেন।
উড়ানের মাঝপথে প্রায় ১৮ হাজার ফুট নীচে নেমে গিয়েছিল বিমানটি। প্রথমে জরুরি সঙ্কেত এবং পরে ‘স্কোয়াক ৭৫০০’ বার্তা পাঠানো হয়, যা বিমান ছিনতাইয়ের সঙ্কেত। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি। পরে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, সহ-পাইলট মচ্ছরকে ছুরি মেরে বিমানটি ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন।