আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন

দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে গ্রেফতার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। অভিযোগ, ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে পুজোর পাস বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে।

বিশ্বজিত পাল, নিজস্ব সংবাদদাতা

এই ঘটনায় প্রথমে বউবাজার থানায় ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন এক ব্যক্তি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়। পরে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সূত্রের খবর, বুধবার বেশ কিছু নথি নিয়ে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে হাজির হয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে তদন্তের মধ্যেই তাঁর গ্রেফতারের খবর সামনে এসেছে। তবে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে তদন্তের সূত্রপাতের পর থেকেই একাধিকবার সক্রিয় হয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। গত ২৯ সেপ্টেম্বর তাঁর বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালানোর পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। পরদিন, ৩০ সেপ্টেম্বর, ফের ইডি দফতরে ডেকে তাঁকে প্রায় আট ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর ৭ অক্টোবর আবারও জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন প্রাক্তন মন্ত্রী। সেদিন প্রায় সাড়ে নয় ঘণ্টা ধরে চলে প্রশ্নোত্তর পর্ব।

তদন্তের স্বার্থে ১৬ অক্টোবর তাঁকে ফের তলব করা হলেও সেদিন তিনি হাজিরা দেননি বলে জানা যায়। অন্যদিকে, তদন্তের অগ্রগতির মধ্যেই আইনি সুরক্ষা চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন ইন্দ্রনীল সেন। আগাম জামিন ও রক্ষাকবচের আবেদন জানালেও আদালত তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়। পরবর্তীতে তিনি সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হন। এরপর বুধবার ফের সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে হাজির হন প্রাক্তন মন্ত্রী। এদিন দুপুরের দিকে সিজিও কমপ্লেক্সে কলকাতা পুলিশ ও বিধাননগর পুলিশের উপস্থিতি ঘিরে নতুন করে জল্পনা ছড়ায়। ইডির দফতরে তাঁর হাজিরা এবং পুলিশকর্মীদের উপস্থিতি ঘিরে পরিস্থিতি আরও আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।