ফ্রান্সের শ্রমিক সংগঠনের নেত্রী সোফি বিনেট প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নুকে শ্রমিক ও তরুণ বিক্ষোভকারীদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, দেশের মানুষের মধ্যে এখন প্রবল ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, আর সেই ক্ষোভের যথেষ্ট কারণও রয়েছে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
ফ্রান্সে জিনিসপত্রের দাম বাড়া, স্কুলের খারাপ অবস্থা এবং সরকারি পরিষেবার মান কমে যাওয়ার প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে। ফ্রান্স ২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতেই সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন সোফি বिने।বামপন্থী শ্রমিক সংগঠন জেনারেল কনফেডারেশন অফ লেবার (সিজিটি)-এর সাধারণ সম্পাদক সোফি বिने আরটিএল রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বিক্ষোভকারীদের সমস্যার সমাধান করতে হবে সরকারকে।তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী লেকর্নুকে শ্রমিক সংগঠন ও তরুণ বিক্ষোভকারীদের দাবির দিকে নজর দিতে হবে। ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের প্রতিবাদ দিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন অনেক বড় আকার নিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি, বেতন বাড়াতে হবে, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি করতে হবে এবং সরকারি পরিষেবাগুলি আরও ভালো করতে হবে।
সিজিটির পক্ষ থেকে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো, জিনিসপত্রের দাম বাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বৃদ্ধি এবং স্কুল ও সরকারি পরিষেবার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের দাবি জানানো হয়েছে।আগামী ২৪ অক্টোবর ফের বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। তার আগে ফ্রান্স সরকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করছে। প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু জানিয়েছেন, বিক্ষোভ সামলাতে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হবে। কয়েক দিন ধরে চলা অশান্তির পর বিভিন্ন এলাকায় রাতের কার্ফু বাড়ানো হয়েছে এবং নিরাপত্তা আরও কড়া করা হয়েছে।সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবারের বিক্ষোভের সময় পরিস্থিতি সামলাতে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছিল। কয়েকটি শহরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল বলে স্বীকার করেছেন ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। এর পরেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়।
ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২,৫০০-রও বেশি মানুষকে পুলিশ আটক করেছে। বিক্ষোভ চলাকালীন লিমোজ শহরের একটি পুরনো পুরসভা ভবনে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, বহু দোকান ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে লুটপাট এবং ভাঙচুর চালানো হয়।প্যারিসের প্লাস দ্য লা রেপুব্লিক এলাকা এবং লে আল শপিং এলাকার আশপাশে রাতের কার্ফু জারি করা হয়েছে। লিয়ঁ-সহ আরও কয়েকটি শহরেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সোমবার রাতে প্যারিস ও লিয়ঁতে বড় ধরনের অশান্তি না হলেও সতর্কতার কারণে কার্ফুর মেয়াদ বাড়িয়েছে প্রশাসন।রবিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, সরকার বিক্ষোভকারীদের দাবি ও সমস্যার কথা শুনবে। তবে যারা দাঙ্গা, লুটপাট ও ভাঙচুরের সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্যারিসের উপকণ্ঠের স্কুলগুলিতে পড়ুয়া ও শিক্ষকদের বিক্ষোভ দিয়ে এই আন্দোলন শুরু হয়। স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা বেশি হওয়া, স্কুল ভবনের খারাপ অবস্থা এবং শিক্ষকের অভাবের প্রতিবাদে তাঁরা পথে নামেন। পরে শ্রমিক সংগঠন ও ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সদস্যরাও এই প্রতিবাদে যোগ দেন। এর ফলে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি এবং সরকারি পরিষেবার মান কমে যাওয়াই এখন এই আন্দোলনের প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ৩,০০০-রও বেশি অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। যেসব স্কুলে শিক্ষকের অভাব সবচেয়ে বেশি, সেখানে তাঁদের পাঠানো হবে। পাশাপাশি, আরও কয়েকশো শিক্ষক নিয়োগের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। তবে আর্থিক সমস্যা এবং রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে শিক্ষাব্যবস্থা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসের শেষে ফ্রান্সের সরকারি ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩.৬ ট্রিলিয়ন ইউরো। দেশের এক বছরে মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনের তুলনায় এই ঋণের পরিমাণ ১১৯ শতাংশ। সরকার মনে করছে, চলতি বছরে দেশের বাজেট ঘাটতি মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনের ৫.৪ শতাংশে পৌঁছতে পারে। ২০২৭ সালের মধ্যে সেই ঘাটতি কমিয়ে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।