৯/১১-র ধাঁচেই বিমান হামলার ছক! জেরায় স্বীকার হামামির

দুবাই থেকে ইসরায়েলগামী ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের থেকে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইজরায়েলের কোনও বহুতলে আত্মঘাতী হামলা চালানোর পরিকল্পনা সাজিয়েছিল ফ্লাই দুবাইয়ের ‘সন্ত্রাসী’ পাইলট হামাম আল-হামামির।৯/১১-র ধাঁচে হামলার পরিকল্পনা ছিল। তবে স্মিতের দুঃসাহসিকতায় শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি। শুধু তাই নয় তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, ওমানের ওই পাইলট একাই এই হামলার পরিকল্পনা সাজিয়েছিল জানা গিয়েছে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

জেরায় হামামি জানিয়েছে, তাঁর পরিকল্পনা ছিল ক্যাপ্টেনকে খুনের পর বিমানটি স্বাভাবিক ভাবেই তেল আভিভের দিকে নিয়ে যাওয়ার। সেখানে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি নিয়ে শেষ মুহূর্তে টার্মিনাল বা অন্য কোনও বিমানের উপর আছড়ে পড়াই ছিল উদ্দেশ্য। এই ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা থেকে আদতে ।৯/১১-র বীভৎস স্মৃতিই উস্কে দিচ্ছে।

ইতালির এক সংবাদপত্রে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, হামামির পরিকল্পনা ছিল ক্যাপ্টেন স্মিতকে হত্যা করা করা। এরপর তেল আবিবের কোনও বহুতলে ওই বিমানকে আছড়ে ফেলা। সেই লক্ষ্যে ককপিটে নমাজ পড়ার অজুহাতে ককপিটে থাকা কুড়াল বের করে ক্যাপ্টেন স্মিতকে আক্রমণ করে সে। রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, প্রথম পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর শেষ মুহূর্তে বিমানটিকে মরুভূমিতে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করে হামামি। এমনকি নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয় অটো পাইলট। যার জেরে দ্রুত নিচের দিকে নামতে থাকে ওই বিমানটি।হামামি বিমানের দুটি ইঞ্জিনই বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল তদন্তকারীদের আরও সন্দেহ।

তদন্ত যত এগোচ্ছে আরও জানা গিয়েছে, গত জুলাই মাসে এই হামলার পরিকল্পনা করেছিল হামামি। তবে ক্রু-র এক সদস্যের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়ে যাওয়ায় সে যাত্রায় পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয় সে। সেবার জর্ডনের আকাশে হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল। জুন মাসে ফ্লাইদুবাই-এর ডিউটিতে তেল আভিভে গিয়ে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের তথ্যও সংগ্রহ করেছিল এই সন্ত্রাসী পাইলট।

এরপর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাই দুবাইয়ের বিমানটি মাঝ আকাশে বিপর্যয়ের (Flydubai Attack) মধ্যে পড়ে গত বুধবার। বিমানটিকে সৌদি আরবের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল সন্ত্রাসী হামাম। তাঁর এই কউশলন ধরে ফেলেন স্মিত, সেসময়েই ককপিটে থাকা কুঠার দিয়ে হামাম তাঁকে কোপ দেয়। ধস্তাধস্তিতে বিমানটি দুই মিনিটে ৩৬ হাজার ফুট থেকে ১৭ হাজার ফুটে নেমে এমনকি অতিরিক্ত চাপে রাডারের অংশ খুলে যায়। কোনওমতে ককপিটের দরজা খুলে দেন স্মিত, যাত্রীরা এসে ওই হামিমকে বেধে ফেলতে সক্ষম হন, শেষ পর্যন্ত স্মিতের সাহসিকতা এবং যাত্রী তৎপরতায় বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে, দুই পাইলটের ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরেই ককপিটে রক্তারক্তি হয়েছে। কোনও ব্যক্তিগত আক্রোশ নয়, হামামের পরিকল্পনা ছিল সন্ত্রাসী হামলা সৌদি কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে।ইতিমধ্যেই ক্যাপ্টেন স্মিতের সাকহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে ইজরায়েল প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ক্যাপ্টেন ও প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ইজরায়েল- এর স্বাধিনতা দিবসে আমন্ত্রন জানিয়েছেন।