হরমুজ প্রণালীর কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মৃত্যু ভারতীয় নাবিকের, শোকে ডুবল দেওরিয়ার গ্রাম।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : মাত্র এক মাস আগে পাড়ি দিয়েছিলেন ওমানে। স্বপ্ন ছিল মার্চেন্ট নেভিতে কাজ করে পরিবারের হাল ধরবেন। কিন্তু সেই স্বপ্নের যাত্রা শেষ হল সমুদ্রেই। হরমুজ প্রণালীর কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মৃত্যু হল উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়ার ২৩ বছরের যুবক সূর্য যাদবের। বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যুর খবর পৌঁছতেই শোকে ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার, গ্রাম।
দেওরিয়ার গৌরীবাজার থানার অন্তর্গত করমাঞ্জিপুর আহিরওয়াটি টোলার বাসিন্দা সূর্য, ওমানের একটি সংস্থার মাধ্যমে গত ১৯ অগস্ট কাজে যোগ দিয়েছিলেন। জাহাজের ‘ওয়াইপার’ হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন তিনি। পরিবারের লোকজনকে জানিয়েছিলেন, ওমান থেকে বাহরাইনের দিকে যাচ্ছিল জাহাজটি। পণ্য বোঝাই করে ফের ওমানে ফেরার কথা ছিল।
বুধবার ওমানের পূর্ব উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় জাহাজটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ে। ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ‘এমভি কেপ দাও’ নামে ওই বাণিজ্যিক জাহাজটি ভারতের দিকে যাওয়ার পথে আক্রান্ত হয়। জাহাজে থাকা ১৯ জন ভারতীয়-সহ সমস্ত জীবিত নাবিককে ওমানের রয়্যাল নেভি নিরাপদে উদ্ধার করেছে।
কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল জানিয়েছেন, সূর্য যাদবের দেহ পূর্ণ মর্যাদায় দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। তাঁর পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই কার্যত বাকরুদ্ধ সূর্যের মা পুষ্পা দেবী। কুয়েতে কর্মরত বাবা ওমপ্রকাশ যাদবও খবর পেয়েই দেশে ফিরেছেন। চার ভাইয়ের মধ্যে সূর্যই ছিলেন বড়। এখনও বিয়ে হয়নি তাঁর। ছোট তিন ভাই—সানি দশম, সাহিল নবম এবং সমীর ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়া।
পরিবারের আত্মীয় অবধেশ যাদব জানিয়েছেন, গৌরীবাজারে তাঁর কাছেই থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন সূর্য। প্রতিবেশী রমেশচন্দ্র যাদবের কথায়, “খুব মেধাবী ছেলে ছিল। পরীক্ষায় পাশ করে, ইন্টারভিউ দিয়ে মার্চেন্ট নেভিতে চাকরি পেয়েছিল। যোগ দিয়েছিল মাত্র ১৯ অগস্ট।”
হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনা এই প্রথম নয়। গত জুনে ওমান উপকূলে ‘সেট্টেবেলো’ নামে একটি ট্যাঙ্কারে হামলায় দেওরিয়ারই শিবানন্দ চৌরাসিয়ার মৃত্যু হয়েছিল। ওই জাহাজে থাকা ২৪ জন ভারতীয়ের মধ্যে ২১ জনকে উদ্ধার করা গেলেও শিবানন্দ-সহ তিন জনের মৃত্যু হয়।
পর পর হামলার পর সংঘাতপ্রবণ জলপথে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যুদ্ধের আঁচ থেকে ভারতীয় নাবিকদের কতটা নিরাপদ রাখা যাচ্ছে? সেই প্রশ্ন আরও একবার উঠছেই।