ফ্লাইদুবাই বিমানে হামলার ঘটনায় এ বার মুখ খুললেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সমাজমাধ্যমে তাঁর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে একটি পোস্টে তসলিমা লেখেন, ‘‘এখন তো পাইলট মুসলমান হলে সেই ফ্লাইটে যেতেই ভয় লাগবে।’’ তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরেই সমাজমাধ্যমে উঠেছে সমালোচনার ঝড়।
সম্প্রতি দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ককপিটের ভিতর হামলার ঘটনা ঘটে। ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের উপর হামলা করেন ওমানের নাগরিক তথা বিমানের কো-পাইলট হামাদ আল-হামামি। গুরুতর আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলে দেন মচ্ছর। এর পর যাত্রী ও বিমানকর্মীরা ভিতরে ঢুকে পরিস্থিতি সামাল দিতে সাহায্য করেন। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি।
ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে হামামির আচরণ এবং তাঁর অতীত সম্পর্কে নানা দাবি সামনে এসেছে। বিমানটিকে হাইজ্যাক করে বড় ধরনের নাশকতার চেষ্টা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। এই আবহেই তসলিমার মন্তব্য বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তাঁর পোস্টে মূলত বিমানের নিরাপত্তা নিয়েই আশঙ্কা প্রকাশ পেয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। কী ভাবে কোনও সন্দেহজনক অতীত থাকা ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পৌঁছতে পারেন, সেই প্রশ্নও উঠছে। ভবিষ্যতে বিমানের ককপিটে এমন ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটে, তার জন্য আরও কঠোর নজরদারি ও যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে বলেও দাবি উঠেছে।
তবে তসলিমার মন্তব্যের সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ তাঁর ‘পাইলট মুসলমান হলে’ মন্তব্যটি। ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে বিমানের নিরাপত্তাকে এক করে দেখার অভিযোগ তুলছেন অনেকে। যদিও তসলিমা অতীতেও ইসলামি কট্টরপন্থার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই একাধিকবার সরব হয়েছেন। সম্প্রতি পর্তুগালে বোরখা নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানিয়ে তিনি গোটা বিশ্বে বোরখা-নিকাব নিষিদ্ধ করার পক্ষেও সওয়াল তুলেছিলেন।
ফ্লাইদুবাই কাণ্ডের তদন্ত এখনও চলছে। তার মধ্যেই তসলিমার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ফের প্রকাশ্যে এল ধর্ম, সন্ত্রাসবাদ এবং নিরাপত্তা নিয়ে পুরনো বিতর্ক।